Last Updated:
Mid Day Meal in School: টেন্ডার ছাড়া ইস্কনের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব? জনস্বার্থ মামলার শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হাইকোর্টে। রাজ্যকে দিতে হবে হলফনামা।
কলকাতা: মিড-ডে মিলে কীভাবে টেন্ডার ছাড়া সংস্থা নিয়োগ? কলকাতায় মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইস্কনকে যুক্ত কীভাবে? এই সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলায় হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই বিষয়ে সরকারি কোনও বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়নি। কেবলমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ভিত্তিতে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে ওই ঘোষণা যে এখনও কার্যকর হয়নি সে বিষয়ে রাজ্যকে হলফনামা দিতে হবে।
জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল, এত দিন স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেই দায়িত্ব ইস্কনের হাতে তুলে দিলে হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বিপন্ন হবে। স্থানীয় স্তরে রান্না এবং অংশগ্রহণই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, টেন্ডার ছাড়া কোনও সংস্থাকে কাজ দেওয়া যায় না বলেও দাবি করেন কল্যাণ।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ওই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। ওই প্রকল্প এখনও পর্যন্ত কার্যকর করাও হয়নি। সরকারের কাছে কেবল একটি প্রস্তাব এসেছে, তার বেশি কিছু নয়। সেই অনুমানের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়েছে। এর পরেই আদালত জানায়, ভবিষ্যতে ওই বিষয়ে যদি কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তবে মামলাকারীরা আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। এর পরেই আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য মামলাটির শুনানি মুলতবি করে দেয়।
মামলাকারীদের আশঙ্কা, তবে কি সেই নিরামিষ ‘গুজরাত মডেল’ এবার বাংলার স্কুলগুলিতেও চাপিয়ে দেওয়ার ছক চলছে? বাংলার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলে দীর্ঘদিন ধরেই ডিম পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্যতালিকা চালু হলে বাংলার দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ারা প্রয়োজনীয় প্রাণিজ প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হবে।
অর্ণব হাজরা
Kolkata,West Bengal
