আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখা রাজস্থান থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও এখনও উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা।
এছাড়া বীরভূম, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতাতেও দিনের বিভিন্ন সময় মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
আগামী শনিবার ও রবিবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে। তবে সব জেলাতেই কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, সোমবার ও মঙ্গলবার থেকে আবার বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে।
উত্তরবঙ্গে আজও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা।
এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি—এই পাঁচ জেলায় রবিবার পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বজায় থাকবে।
সমুদ্রের পরিস্থিতি এখনও উত্তাল থাকায় আজও মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনের উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।