রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘আমার ব্যক্তিগত মত এই ধরনের মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আজ থেকে বহু বছর আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি বলেছিলেন সীমান্তবর্তী মাদ্রাসা গুলি সন্ত্রাসের আঁতুরঘর। পরে দলের রাজনৈতিক চাপে তাঁকে তাঁর বক্তব্য থেকে সরে আসতে হয়েছিল। উনি তো এমনি এমনি বলেননি, অনেক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতেই বলেছিলেন। সেই সময় যদি ওই অবস্থা থাকে, তাহলে তো আজ আরও খারাপ অবস্থা হবে। সরকারের উচিত যে মাদ্রাসার সঙ্গে এই ধরনের খারাপ কোনও বিষয়ে যোগসাজশ পাওয়া যাবে, সেগুলিকে দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া।’’
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের খারিজি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত মন্তব্যটি নিয়ে ২০০২ সালে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল সেই সময়। তাঁর বক্তব্যের পর পরই ফরওয়ার্ড ব্লক সহ বিভিন্ন শরিক দলের অসন্তোষের মুখে পড়েন বুদ্ধদেব৷ পরে জানান যে, অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে উদ্ধৃত করেছে। তিনি বলেননি যে, অননুমোদিত মাদ্রাসাগুলো বেআইনি কার্যকলাপের কেন্দ্র। তিনি কেবল এই ধরনের মাদ্রাসাগুলোকে মূলধারায় আসার জন্য আবেদন করেছিলেন, যাতে তাদের ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়৷
রবিবার এ প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকেও বলতে শোনা যায়, ‘‘একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন কিছু বলেন, তখন ভেবে শুনে বলেন। কিন্তু তার পার্টি তাকে কিছু বলতে দেয়েনি। আমাদের সরকার কোনও দেশ বিরোধী কাজ হতে দেবে না৷’’
শনিবার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীকে এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যেটাকে নিজেই ভুল ব্যখ্যা করা হয়েছে বলেছিলেন, সেটাকে ঠিক বলে মেনে নিয়ে কোনও কথা বলার সুযোগ আমার নেই।’’
বাম নেতার কথায়, ‘‘খারিজি মাদ্রাসা আগেও ছিল, বরং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা জ্যোতি বসুর সময় থেকে আধুনিক শিক্ষার মতো করে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণ হয়েছিল। সেটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসিত হয়েছে৷’’
বর্তমান সরকার এবার বিশেষ নজর দিয়েছে খারিজি মাদ্রাসায়। ১২ জেলার খারিজি মাদ্রাসায় পরিদর্শনের জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে যাবেন জেলার সরকারি অফিসাররা।
খারিজি মাদ্রাসায় সরকারি সিলেবাস পড়ানো হয়? খারিজ মাদ্রাসায় সরকারি প্রকল্প চালু আছে? এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে ১২ জেলার খারিজি মাদ্রাসা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর৷ ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে পরিদর্শনের কাজ শেষের নির্দেশ৷ ২১ জুলাইয়ের মধ্যে খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়বে নবান্নে৷