Last Updated:
শুনানিতে কুণালের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, ঘটনার দিন তাঁর মক্কেল কলকাতাতেই ছিলেন না৷ শহরের বাইরে একটি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন তিনি৷
আদালত অবমাননার মামলায় বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট৷ ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল উচ্চমাধ্যমিকের অতিরিক্ত শূন্যপদে নিয়োগকে ঘিরে বিক্ষোভে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে৷ সেই মামলাতেই তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে ২০০০ টাকা জরিমানা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট৷ কুণাল ঘোষ ছাড়াও ৭ জন চাকরিপ্রার্থীকেও দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত৷ তাঁদের ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে৷ বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ এ দিন এই নির্দেশ দিয়েছে৷
উচ্চমাধ্যমিকের অতিরিক্ত শূন্যপদে ১২৮০ জন চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগেই ঘটনার সূত্রপাত৷ চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ ছিল, আদালতে মামলার কারণে জট তৈরি হওয়ায় আটকে রয়েছে তাঁদের নিয়োগ৷ ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ থেকে কোনও নির্দেশ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা৷ উচ্চপ্রাথমিক চাকরি প্রার্থীরা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে মিছিল করেন৷ এর পর কিরণশঙ্কর রায় রোডে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের জুনিয়র আইনজীবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা হয়৷ এসএসসি সুপারিশপত্র দেওয়া সত্ত্বেও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁর জুনিয়রদের সওয়ালের কারণেই আদালত তাঁদের নিয়োগে ছাড়পত্র দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন চাকরিপ্রার্থীরা৷
জুনিয়রদের আটকে রাখার খবর পেয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য হাইকোর্ট চত্বরে গেলে তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ শুরু হয়৷ এমন কি, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর ছবি পায়ের নীচে ফেলে মাড়ানো, থুতু ছিঁটনোর মতো ঘটনা ঘটে৷ শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তাঁর জুনিয়রদের উদ্ধার করে পুলিশ৷
কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পুলিশের সামনে একজন বিচারপতির ছবির অবমাননা, আইনজীবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখা, এলাকা অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট৷ বিচারপতি অরিজৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আদালত অবমাননার অভিযোগে শুরু হয় মামলার বিচার৷ ২০২৫ সালের ১৯ মে মামলার শুনানিতে কুণাল ঘোষ বিচারপতিদের কাছে আবেদন করে বলেন, তাঁকে দু তিন মিনিট সময় দেওয়া হোক৷ তিনি কিছু বলতে চান৷ যদিও তৃণমূল নেতার আবেদনে গুরুত্ব দেয়নি হাইকোর্ট৷ কুণালের আর্জি না শুনেই এজলাস থেকে উঠে যান তিন জন বিচারপতি৷
গত ২ মে বৃহত্তর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, আমরা প্রাথমিক ভাবে বলেছিলাম, ‘এটা অপরাধমূলক কাজ। আদালত অবমাননার নোটিস পেলে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। তার পরেও কেউ হলফনামা জমা দেননি।’
বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ছিল ‘কেন দেরি হল তা আর জানতে চাইছি না। আমরা সবার বিরুদ্ধে রুল জারি করছি। কাউকে জেলে পাঠাচ্ছি না। রুলের উত্তর দিন।’
আদালতে অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের উস্কানিতেই সেদিন কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে ওই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা৷ এই ঘটনার আগে পড়ে সংবাদমাধ্যমে কুণাল ঘোষ বেশ কয়েকটি উস্কানিমূলক মন্তব্যও করেন বলে অভিযোগ৷ ওই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার আদালতে রিপোর্ট জমা দেন।
Kolkata,West Bengal
