Last Updated:
Madan Mitra Leaves Mamata: এই কিছুদিন আগে পর্যন্তও মদন মিত্রকে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে৷ এমনকি, INDIA জোটের বৈঠকে মমতা যখন নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন, সেই সফরেও তাঁর সঙ্গী হতে দেখা গিয়েছে মদন মিত্রকে৷ নেতার বাড়িও ভবানীপুরেই৷
কলকাতা: কোথায় ২১ জুলাই পালন করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? তা নিয়ে টানাপড়েনের মাঝেই মমতা শিবিরে ফের ধাক্কা৷ মঙ্গলবার রাত থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল সলতে পাকানো৷ কাল রাত সাড়ে ন’টার দিকে হঠাৎই স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন মদন মিত্র৷ তাঁর ছেলে সন্দীপন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তো শুরু হয়েছে নব তৃণমূলের যাত্রা! তাই রাজনৈতিক মহল মোটের উপরে বুঝেই গিয়েছিল যে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অনুব্রত মণ্ডলের পরে এবার মদন মিত্রের পালা৷ এই সপ্তাহ দু’য়েক আগেও তাঁকে দলের (মমতাপন্থী) সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন মমতা৷ এবার সেখান থেকে সরে এলেন তিনি৷ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বটেই অভিষেককে নিয়েই বেশি করে ক্ষোভ উগড়ে দেন মদন৷
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস এখন একটি “খণ্ডিত” (fragmented) দলে পরিণত হয়েছে।’’ এরপরেই তাঁর উল্লেখযোগ্য মন্তব্য, ‘‘আমি শুধু আমার ঘর বদলেছি, বাড়ি নয়। আমি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেই আছি।’’
কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দেওয়া প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি৷ বলেন, ‘‘আমার ছেড়ে যাওয়ার কারণ অভিষেক৷ কাজ করতে দেয় না৷ আমি তো চুনোপুটি, মমতাকে কাজ করতে দেয়না৷ একটা সময ছিল অভিষেক যা বলবে তা না শুনলে ডাকো পুলিশ৷’’
মদন মিত্র বলেন, ‘‘আমি অভিষেক ব্যানার্জীকে ছয় মাস বা এক বছরের জন্য সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, চলুন আমরা দলটাকে গড়ে তুলি, তারপর আপনি ফিরে এসে আপনার আসনে বসতে পারেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, আমি দল ছাড়ব না। দলটা ডুবছে; নৌকাটা ডুবে গেছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। তবুও, দল সিদ্ধান্ত নিল, বা বলা ভাল, মেনে নিতে বাধ্য হল যে বাকি সবাই মরে গেলেও অভিষেককে বাঁচাতে হবে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক৷’’
মদন আরও বলেন, ‘‘দলটা সকলের, অথচ মনে হচ্ছে এটা শুধু অভিষেকের সেবা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমি মমতাকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি, আসুন, আমরা এটিকে একটি ম্যারাথন হিসেবে দেখি। পথে আমাদের নিশ্চয়ই দেখা হবে। দেখা যাক কোন ঘোড়াটা এগিয়ে যায়৷’’
দলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় মিত্র স্পষ্ট করে দেন যে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবে বহাল থাকবেন, যদিও তিনি বলেন যে তিনি আর নিজেকে ‘কার্যকরী অর্থে’ তৃণমূল বিধায়ক বলে মনে করেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। যদিও আমি বিধায়ক হিসেবেই রয়েছি। আমি তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। তার মানে, কার্যক্ষেত্রে আমি আর তৃণমূল বিধায়ক নই৷”
তবে, এদিন সেই মদন মিত্রই বলেন, ‘‘মমতার পাশাপাশি থাকলে মমতার ঘনিষ্ঠ নয়৷ উত্তর ২৪ পরগনায ৭ জন মন্ত্রীকে কাজ করতে দেয়নি৷ এই ৭জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ.ক্ষমতা থাকলে প্রমান করে দেখানো হোক আমরা টাকা নিযে চাকরি দিযেছি৷ আড়াই হাজার কর্মী নিযে এবারের সমাবেশ করে আমাদের মুখটা বাঁচাক৷’’
