জান টাইমস (Zan Times) এবং দ্য গার্ডিয়ানের (The Guardian) এক প্রতিবেদনে আফগানিস্তানের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, কমে আসা মানবিক সহায়তা এবং মেয়েদের উপর তালিবানের বিধিনিষেধ নতুন করে শিশুবিবাহ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের গর্ভধারণের ঘটনা বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে এমন বহু ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কিশোরী বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিশু অবস্থাতেই ভবিষ্যতের বিয়ের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, অর্থ বা ঋণমুক্তির বিনিময়ে নিজেদের কন্যাদের বিয়ে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনও উপায় ছিল না।
এমনই এক ঘটনা সিমার (নাম পরিবর্তিত) জীবনের, যিনি জানান যে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবার চাপে তাঁকে তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সিমা এমন এক জীবন কাটিয়েছেন, যা কল্পনা করাও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে কঠিন। গত পাঁচ বছরে তিনি চারবার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি সন্তান এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যায়। আরেকটি সন্তান সদ্যোজাত। স্কুলে যাওয়ার বদলে তাঁর দিন কাটে জল আনা, গবাদি পশুর দেখাশোনা, রুটি তৈরি এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়ার কাজে। এর পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত অসুস্থতার সঙ্গেও লড়াই করতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির কাছে নিজের দুর্ভোগের কথা জানাতে গিয়ে সিমা বলেন, ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার সময় তিনি ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর বাবা তাঁকে তাঁর কাকাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন।
তিনি বলেন, “তালিবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আমি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি শেষ করেছিলাম এবং সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু দুই মাস পরই আমার বাবা আমাকে আমার চাচাতো ভাইকে বিয়ে করার জন্য প্রচণ্ড চাপ দিতে শুরু করেন। বাবার হাতে কয়েকবার মারধরের শিকার হওয়ার পর আমি শেষ পর্যন্ত এই বিয়েতে রাজি হতে বাধ্য হই।”
বর্তমানে তিনি বলেন, বারবার গর্ভধারণের ফলে শরীরের উপর যে প্রভাব পড়েছে, তা আর উপেক্ষা করার মতো নয় ৷ তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “আমার সবসময় মাথাব্যথা থাকে। আমার কিডনিতে ব্যথা হয়। নিজেকে আমার ৭০ বছর বয়সী একজন মানুষের মতো মনে হয়।”
প্রতিবেদনের জন্য কথা বলা চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তর আফগানিস্তানের একটি সরকারি হাসপাতালেই চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৮ বছরের কম বয়সী ৪২ জন কিশোরী সন্তানের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জটিলতায় ভুগেছেন, যার মধ্যে ছিল এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি (Ectopic Pregnancy) (জরায়ুর বাইরে ভ্রূণের বৃদ্ধি) এবং জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা। এছাড়া দু’জন অল্পবয়সী মায়ের মৃত্যুও হয়েছে।