Last Updated:
১৭ জুলাই জিন্দ-সোনিপত রুটে দেশের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শূন্য কার্বন নির্গমন, ৩,২০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন এবং ১০ কোচের এই ট্রেন ভারতের সবুজ ও টেকসই রেল পরিবহণে নতুন মাইলফলক হতে চলেছে।
আগামী ১৭ জুলাই হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং পঞ্জাব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একদিনের এই সফরে তিনি প্রায় ₹২৫,০০০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। রেল, সড়ক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ— একাধিক ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগের সূচনা হতে চলেছে এই সফরে। তবে সবকিছুর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জিন্দ থেকে সোনিপতের মধ্যে দেশের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের উদ্বোধন।
হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকেই এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সম্পূর্ণ ভারতে নকশা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি এই ট্রেন দেশের রেল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার এক নতুন নজির। এই উদ্বোধনের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে।
এই ট্রেনে অত্যাধুনিক হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ট্রেনটি চলবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে নির্গত হবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প। ফলে কার্বন নিঃসরণ সম্পূর্ণ শূন্য। পাশাপাশি ডিজেল ট্রেনের তুলনায় এটি বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। আবার প্রচলিত বৈদ্যুতিক ট্রেনের মতো ওভারহেড বিদ্যুতের তারেরও প্রয়োজন হবে না, কারণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে ট্রেনের মধ্যেই। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি ভারতের অন্যতম বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
১০ কোচের এই ট্রেনে রয়েছে ৩,২০০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী প্রপালশন সিস্টেম। ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম এবং শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেনগুলির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।
জিন্দে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ₹১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি-অমৃতসর-কাত্রা এক্সপ্রেসওয়ের একাধিক অংশ, জিন্দ-গোহানা গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে, কুরুক্ষেত্রের এলিভেটেড রেললাইন, নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং শিখ মিউজিয়ামের শিলান্যাস। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে কেন্দ্রের দাবি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী চণ্ডীগড়ে ₹৪,৭০০ কোটিরও বেশি মূল্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সড়ক অবকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পিজিআইএমইআর-এ আধুনিক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড সেন্টার, অ্যাডভান্সড নিউরোসায়েন্সেস সেন্টার এবং অত্যাধুনিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লকের সূচনা হবে তাঁর হাত ধরেই।
দিনের শেষ পর্যায়ে পঞ্জাবের জলন্ধরে ₹৫,৪৭০ কোটিরও বেশি মূল্যের রেল ও সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় দেশের ২০টি রাজ্যের ৭৫টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন, নতুন রেললাইন এবং দুটি নতুন ট্রেন পরিষেবারও সূচনা করবেন তিনি। কেন্দ্রের মতে, এই সমস্ত প্রকল্প দেশের যোগাযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
Kolkata,West Bengal
