‘লজিস্টিক্যাল আইসোলেশন’: ইরানের জীবনরেখা বিচ্ছিন্ন করার কৌশল:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে আমেরিকার অন্যতম প্রধান কৌশল হল ‘লজিস্টিক্যাল আইসোলেশন’—অর্থাৎ ইরানের রসদ, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সেতু, সড়ক ও রেল নেটওয়ার্কে হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দরকে, যা একাই দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালনা করে।
বান্দার আব্বাস শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি এবং খাদ্যসামগ্রী এই বন্দর দিয়েই পৌঁছে যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার পরিকল্পনা হল বান্দার আব্বাসকে ইরানের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। যদি এই বন্দর দেশের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়, তাহলে ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে গোলাবারুদ ও রসদের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যা তাদের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের ৬ স্তরের ঘেরাও: যুক্তরাষ্ট্র কোন কোন দিক থেকে ইরানকে অবরুদ্ধ করেছে বলে দাবি:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে আমেরিকা যেসব কৌশলগত পথ ও স্থাপনায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়েছে, সেই তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, দেশটি বর্তমানে কতটা বড় সঙ্কটের মুখে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বান্দার আব্বাস–হাজিয়াবাদ হাইওয়ে: এই প্রধান সড়কে অবস্থিত বিখ্যাত শহিদ মিরজাই টানেল-এ আমেরিকা দুই দিক থেকেই বোমা হামলা চালিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণভাবে অচল করে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই টানেলটি বান্দার আব্বাসকে ইরানের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করার অন্যতম প্রধান পথ ছিল।
বান্দার আব্বাস–সিরজান হাইওয়ে: শুর (Shur) নদীর উপর নির্মিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি মার্কিন মিসাইল হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলির সঙ্গে বন্দরটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বান্দার আব্বাস–তেহরান করিডর: ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত এই মহাসড়ক এবং রেলসেতুগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বান্দার খামির এবং মিনাব–রুদান সড়ক: বান্দার আব্বাসের পশ্চিমে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বান্দার খামির-এর রেলস্টেশন ও সেতুগুলি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলিকে সংযুক্তকারী মিনাব–রুদান সড়ক-এর দুটি বড় সেতুও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বান্দার আব্বাস রেলওয়ে স্টেশন: এই প্রধান রেলস্টেশনে এতটাই ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে যে, রেলপথে সেনাবাহিনীর সব ধরনের রসদ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ, জল ও নজরদারি ব্যবস্থা ধ্বংস: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাস্ক-এ সমুদ্রের জলকে খাওয়ার যোগ্য করার ওয়াটার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় গ্রাম ও সামরিক চৌকিগুলিতে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সিরিক এবং কেশম দ্বীপ-এর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ওমান উপসাগরে ইরানের ‘চোখ’ হিসেবে পরিচিত চাবাহার টাওয়ার মার্কিন নৌবাহিনী আগেই ধ্বংস করে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যাতে ইরান সমুদ্রে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলির গতিবিধি নজরদারি করতে না পারে।