Last Updated:
Dia Mirza: কেরিয়ারের শুরুতে তাকে স্তন বড় করতে এবং ঠোঁটে ফিলার নিতে বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, এতসব অর্জন সত্ত্বেও এ ধরনের মন্তব্য তাকে হীনমন্যতায় ভোগাত।
মুম্বই: দিয়া মির্জা বলিউডে সৌন্দর্য নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন যে, তাকে তাঁর চেহারা আরও আকর্ষণীয় করতে এবং বাহ্যিক রূপে পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছিল। তিনি প্রকাশ করেছেন যে, ‘ঠোঁটে ইনজেকশন নাও’ এবং ‘স্তন বড় করো’-র মতো মন্তব্যগুলো সবসময় ইন্ডাস্ট্রির পুরুষদের কাছ থেকেই আসত এবং তার সাফল্য সত্ত্বেও এই ধরনের মন্তব্য তাকে হীনমন্যতায় ভোগাত।
সৌন্দর্যের মানদণ্ড, বার্ধক্য এবং কসমেটিক পদ্ধতি নিয়ে এক কথোপকথনে দিয়া বলেন, নারীদের প্রায়শই এমনটা অনুভব করানো হয় যে তাদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আজকের বিশ্ব বাহ্যিক রূপকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়, অথচ নিজের শরীর ও মনকে বোঝা এবং গ্রহণ করার ওপর অনেক কম মনোযোগ দেওয়া হয়।
“এটা খুবই ভীতিজনক, কারণ আমার মনে হয়, আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি নারী কসমেটিক সার্জারি করাতে আগ্রহী। এবং এটা খুবই মজার বিষয় যে, এই ইন্ডাস্ট্রির চালকেরা পুরুষ। আর তারাই এই ইন্ডাস্ট্রিকে পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণভাবে ভয়ের উপর ভিত্তি করে চালায়, তাই না? যদি কোনও নারী তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সেগুলোকে আরও সুন্দর করতে চায় — অথবা কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে নিজের বৈশিষ্ট্যগুলোকে আরও সুন্দর করছে বলে মনে করে — তার কারণ হল, কোনও এক পুরুষ তাকে বলেছে যে সে যথেষ্ট ভাল নয়। অথবা তার বয়স যথেষ্ট নয়। এবং আমার মনে হয়, এই ক্রমাগত ফাঁদটি, যার মধ্যে সুযোগ পাওয়া বহু নারী আটকা পড়ে, তা খুবই ভীতিজনক। কারণ সেখানে যা ঘটছে তা হল, তারা নিজেদের মধ্যে এই জিনিসগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে। এবং কোনওভাবে এটি তাদের সেই অনুভূতিটা দেয় না, যা তাদের পাওয়া উচিত,” বলেছেন দিয়া মির্জা।
বয়স-বৈষম্যের শিকার হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অভিনেত্রী উত্তর দেন, “অবশ্যই হয়েছি! এবং আমাকে এটাও বলা হয়েছে যে আমার কীভাবে বদলানো উচিত, কী কী করানো উচিত। আমার চেহারা আরও সুন্দর করার জন্য আমি কী করতে পারি। আর এই কথাগুলো সবসময় পুরুষদের কাছ থেকেই এসেছে। কোনও নারী আমাকে বসিয়ে কখনও বলেনি, ‘যাও, তোমার ঠোঁটে ইনজেকশন নাও। তোমার ঠোঁট খুব পাতলা।’ অথবা ‘তোমার স্তন আরও বড় করো।’ এই কথাগুলো সবসময় পুরুষরাই বলে। এটাই সত্যি।”
ঠোঁটের সার্জারি বা স্তন বড় করার পরামর্শ তাকে প্রভাবিত করেছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে দিয়া বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিজেকে অযোগ্য মনে করতাম। আর এটা হয়েছিল দুটো সৌন্দর্য খেতাব জেতার পর। আমি তখন তরুণী ছিলাম। আমি কিশোরী, আমার বয়স তখন কুড়িও হয়নি। আর এমনটা হয় এবং বারবার হয়েছে। কখনও কোনও পরিচালক, কখনও কোনও প্রযোজক। কখনও এমন কেউ, যে নিজেকে বিশেষজ্ঞ মনে করত। কিন্তু আমার মনে পড়ে না কোনও নারী আমাকে কখনও এমনটা বলেছিলেন,” তিনি বলেন।
Kolkata,West Bengal
