ইসলামাবাদে কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ইশাক দার এই মন্তব্য করেন। অনিতা আনন্দ বর্তমানে দুই দিনের পাকিস্তান সফরে রয়েছেন। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় হওয়া সিন্ধু জল চুক্তি সিন্ধু অববাহিকার ৬টি নদীর জলবণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদীর উপর ভারতের অধিকার রয়েছে, আর নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভারতের ব্যবহারের অনুমতি সাপেক্ষে তিনটি পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীর জল পায় পাকিস্তান।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার একদিন পর ভারত এই চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। সোমবার সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইশাক দার অভিযোগ করেন, ভারতের এই সিদ্ধান্ত এই অঞ্চলের আগে থেকেই সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণার মাধ্যমে ভারত আগে থেকেই অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।”
আন্তর্জাতিক সমর্থন চেয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিশেষভাবে কানাডার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানান। দার বলেন, “আমরা কানাডা-সহ আমাদের বন্ধু দেশগুলির কাছে ভারতের মাধ্যমে অবিলম্বে সিন্ধু জল চুক্তি পুনর্বহাল, জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা পালনের বিষয়ে সমর্থন কামনা করছি।”
ইশাক দার এই মন্তব্য করার সময় কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ দুই দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন।
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের মতে, বর্তমান কাঠামোয় এই চুক্তি আর কার্যকর থাকবে না।
প্রতিবেদনটি সরকারি সূত্র মারফত জানিয়েছে, এই মুহূর্তে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসার বিষয়টি ভারত সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে না। তবে বর্তমান কাঠামোর অধীনে চুক্তিটি চালিয়ে যাওয়াকে দেশের স্বার্থের অনুকূল বলে মনে করছে না।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত কোনও বিধান পুনরায় কার্যকর করা হয়, তবে তা ভিন্ন একটি কাঠামোর অধীনে হবে এবং “বর্তমান রূপে নয়।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অবস্থান হল—চুক্তি স্থগিত থাকার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে “বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে” সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত এটি স্থগিতই থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, পাকিস্তানের প্রধান সমস্যা জলের প্রাপ্যতা নয়, বরং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা। একই সঙ্গে ভারতের দাবি, বৈজ্ঞানিক অববাহিকা ব্যবস্থাপনা এবং পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সিন্ধু অববাহিকার জলসম্পদে নিজেদের বৈধ অংশের সর্বোচ্চ ব্যবহার অব্যাহত রাখবে ভারত।