Last Updated:
Unique Art: বলভদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা নিভৃতচারী শিল্পী বরুণ সাহু। ফেলনা খবরের কাগজকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন অপূর্ব সব ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম। ২০০৮ সাল থেকে প্রথাগত রং-তুলির বাইরে গিয়ে তিন নতুন শল্পের হাত ধরেন। পুরনো খবরের কাগজের মণ্ড ও আঠা ব্যবহার করে তিনি জীবন্ত করে তুলছেন সমাজের নানা চিত্র।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: প্রচারের আলো তাঁর একেবারেই না-পসন্দ। সাদামাঠা জীবনে অভ্যস্ত মানুষটির ধ্যানজ্ঞান শুধুই শিল্পকলা। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক অহঙ্কার নেই তাঁর। তবে আছে এক অদম্য জেদ আর শিল্পের প্রতি নিখাদ ভালবাসা। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার বলভদ্রপুর এলাকার বাসিন্দা বরুণ সাহু। পেশাগতভাবে তিনি অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, তাঁর আসল নেশা নিত্যনতুন শিল্পকর্ম তৈরি করা। আর তাঁর সেই হাতের ছোঁয়াতেই বাতিল জিনিসপত্র নিমেষে পেয়ে যায় নতুন জীবন।
ছোটবেলায় দাদার কাছেই ছবি আঁকায় হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। এরপর নিজের ইচ্ছাশক্তিতে ভর করেই শিল্পের পথে এগিয়ে চলা। প্রথাগত রং-তুলির গণ্ডি পেরিয়ে বরুণবাবু বরাবরই চেয়েছেন নতুন কিছু করতে। ২০০৮ সালে ক্র্যাফ্ট ও আঁকার একটি বিশেষ কোর্স করার পর থেকেই ফেলে দেওয়া জিনিস নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। তাঁর শিল্পকর্মের মূল উপকরণ হল পুরনো খবরের কাগজ। বাতিল খবরের কাগজ জলে ভিজিয়ে মণ্ড তৈরি করে, তার সঙ্গে আঠা মিশিয়ে নেন শিল্পী।
সমাজের চারপাশের চেনা ছবিগুলিকেই যেন নিপুণ দক্ষতায় শিল্পের মাধ্যমে ধরে রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি তাঁর এই অনবদ্য কাজগুলি প্রকাশ্যে আসতেই মুগ্ধ হয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পানুরাগীরা। প্রত্যন্ত গ্রামের এই নিভৃতচারী শিল্পীর কাজ ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি, ফেলে দেওয়া জিনিসকে এমন সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব শিল্প সৃষ্টির এই অভিনব ভাবনা আগামী যুব প্রজন্মের কাছেও এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে
Paschim Medinipur,West Bengal