নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ চলাকালীন, ‘হিংসায় অংশে নেওয়া’ আন্দোলনকারী হিসেবে, যারাই চিহ্নিত হবেন, তাঁদেরই পাসপোর্ট বাতিল করা হতে পারে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন, ‘আপনিই সেই ব্যক্তি..”, NEET কাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর এবার রাহুল গান্ধী বললেন..
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও রেকর্ডিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তথ্য প্রমাণ জোগাড় করছে যে, ঠিক কারা কারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হিংসা ছড়াচ্ছে। সূত্র মারফৎ খবর, যারাই এই সনাক্তকরণের প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত হবে, তাঁদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়া হতে পারে বলে খবর।
লাঠিচার্জ, ফাটানো হয় কাঁদানে গ্য়াসের শেল, চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হল বিক্ষোভকারীদের। ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় গত সোমবার। সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো বলেন, একটা ভালো সরকারের যেভাবে সামলানো উচিত, তারা সে ভাবে সামলাচ্ছে না। একটা যথাযথ সরকারের এই প্রতিবাদে অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। কারণ, তারা তাহলে মানুষের স্বর শুনতে পেত এবং তার ওপর ভিত্তি করে, তারা বদল আনতে পারত। আমাদের সরকারি ব্য়বস্থায় কোনও বিশ্বাস নেই। সেই কারণে আমি তাঁকে (সোনম ওয়াংচুক) সেখান থেকে স্থানান্তর করতে চাই।এই আন্দোলন সরকারি ব্য়বস্থার বিরুদ্ধে। যেটা পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত।
NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ও CBSE-র খাতা দেখায় গোলমালের বিরুদ্ধে সোনম ওয়াংচুকের ডাকে ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয় রাজধানীতে। সোমবার অভিযান শুরুর আগেই যন্তরমন্তরে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। পরে দুপুরের দিকে সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায় বিক্ষোভকারীরা। তড়িঘড়ি নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করা হয় সংসদ ভবনের মূল গেট। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, এখানে যখন ছাত্র, যুবরা এসেছিলেন, তারা চেয়েছিলেন সরকার ওদের কথা শুনুক, সরকারের মধ্যে এতটাই অহঙ্কার যে, শুনতেই চাইল না। শোনা তো দূর, যদি তাঁরা এই পর্যন্ত আসতে চান নিজেদের কথা বলার জন্য, তখন লাঠি, যতরকম অন্যায় করা যেতে পারে, যতরকম প্রতারণা করা যায় সেটা করা হচ্ছে। এই বিজেপির লোকজনই দুর্নীতি করে থাকেন।
বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সকাল থেকেই কার্যত পুলিশ দিয়ে মুড়ে ফেলা হয় যন্তরমন্তর থেকে সংসদ ভবনের পথ। নয়াদিল্লি জুড়ে জারি করা হয় BNS-এর ১৬৩ ধারা। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরমধ্যেই,পুলিশের ধরপাকড় অগ্রাহ্য করেই সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছে যায় আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। আলোচনার দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভে দফায় দফায় সংসদরে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।