এরা কারা? এরা কি ছাত্র?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘‘ককরোচ জনতা পার্টি বলেছে বামফ্রন্টের কিছু সংগঠন কর্মসূচিতে ঢুকে পড়ে। তাঁরা ছাত্র বলে জানা নেই। ওদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্তিত্ব নেই। মিছিলে ঢুকে পড়ে SFI, DYSA, AIDSO, AISA ৷’’
প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব, আন্দোলনের নামে সাংবাদিক নিগ্রহ:
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের রেশ কলকাতায়। নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে কলকাতায় মিছিল ও জমায়েতে তুমুল বিশৃঙ্খলা হয়। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য চলে। প্রতিবাদের নামে কার্যত ‘জঙ্গিপনা’। ধর্মতলায় সাংবাদিকদের উপর ন্যক্কারজনক আক্রমণ। নিউজ18 বাংলার রিপোর্টার প্রীতি, অমিত, রৌণক টার্গেট। জি২৪ ঘণ্টার প্রতিনিধি পিয়ালি মিত্র, কমল জানাকেও মারধর হেনস্থা। আক্রান্ত TV9 বাংলার প্রতিনিধি দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, সুমন মহাপাত্র এবং মাখন পাত্র। হামলা R প্লাসের ঋক পুরকায়স্থের উপরেও। ঘটনার আঁচ এসে পড়ল বিধানসভায়। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ঘটনায় জড়িত কুখ্যাতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘‘সাংবাদিকদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের একজনও ছাত্র নয়। রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ। একবালপুরের তনভীর এবং নিজাম। ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। ৫টা গুন্ডার নাম ঘোষণা করলাম। গুন্ডাদমন আইনে কড়া ব্যবস্থা নেব। যাতে একদিন নয়, এই গুন্ডাদের তিনপুরুষ মনে রাখে ৷’’
পুলিশের দাবি, জনতাকে উসকানি দিয়ে শুক্রবার পুরো ডোরিনা ক্রসিং দখল করার ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, বারবার মাইকে প্রচার করে জমায়েতকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। এলাকা খালি করতে বলা হলেও তা কানে তোলেননি বিক্ষোভকারীরা। বরং পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছুড়তে শুরু করেন তারা। হেনস্থা করা হয় কর্মরত সাংবাদিকদেরও।
আন্দোলনের নামে সাংবাদিক নিগ্রহে ৭ FIR
স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ
রাতেই আক্রান্ত সাংবাদিকদের বয়ান রেকর্ড
একাধিক ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ
আন্দোলনের নামে সাংবাদিক নিগ্রহ। শুক্রবার রাতেই আহত সাংবাদিকদের দেখতে এসএসকেএমে যান মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল থেকেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার সাংবাদিক হেনস্থার ঘটনায় বিধানসভায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির সামনে কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেন বিজেপি বিধায়করা। পরিকল্পনা করেই হামলা, ছক কষে সাংবাদিক নিগ্রহ, সরব বিজেপি থেকে নব তৃণমূল। বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান জানান, ‘‘তীব্র ধিক্কার জানাই, লজ্জার ঘটনা। একদম ব্যবস্থা হবে, ঘর নয় শ্রীঘর হবে। গুন্ডাদমন আইন এনে প্রত্যেকের ব্যবস্থা হবে ৷’’
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘‘বিদেশি ফান্ডিং, বিদেশি চক্রান্ত। কারা কারা যুক্ত নামগুলো দেখলেই বোঝা যায়। এরা তো সব এজেন্ট। ছাত্র আন্দোলন তো গত ১৫ বছরে উঠিয়ে দিয়েছে। এরা কেউই ছাত্র নয় ৷’’
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আন্দোলনের নামে গুন্ডামি হয়েছে। টার্গেট করে সংবাদমাধ্যমকে মারা হয়েছে। তারা শুধু মারতে যায়নি লুট করতেও গেছিল। আন্দোলনের নামে গুন্ডামি করা যাবে না ৷’’