দিল্লি : ফের বিপাকে অনিল আম্বানি। সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেড-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি এবং কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছে। মামলাটি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (EPFO) -এর ১,৮১৬.২২ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার কারণে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ইপিএফও-য় প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক ২১ জুলাই একটি অভিযোগ দায়ের করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। CBI এখন সম্পূর্ণ বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখবে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অনিল আম্বানির মুখপাত্র। কোনও ধরনের অপরাধ করা হয়নি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করার কথাও বলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের অভিযোগ পত্রে কী লেখা আছে ?
গত ২১ জুলাই কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের তরফে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল ও অনিল অম্বানীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও ইপিএফও-র ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিযোগ পত্রে লেখা, ২০১৩-২০১৪ অর্থবর্ষে ইপিএফও রিলায়েন্স ক্যাপিটালের ‘সিকিয়র্ড নন-কনভার্টিবল ডিবেঞ্চার’-এ ২,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এই টাকা ২০২৩-২৪ সালে ম্যাচুওর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও, সেই অর্থ মেটাতে ব্যর্থ হয় অনিল আম্বানির রিলায়েন্স ক্যাপিটাল। কিন্তু পরে এই অর্থ ফেরত নিতে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)-এর সাহায্য নিতে হয়। এনসিএলটির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালে ইপিএফও ১,৪৯২ কোটি টাকা ফেরত আসে। তবে মূল অঙ্কের ১,০০৭ কোটি টাকা এবং সুদের ৮০৯ কোটি টাকা এখনও বকেয়া থেকে যায়। এর ফলে ইপিএফও-র যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ভিত্তিতেই অভিযোগ দায়ের করে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আম্বানীর মুখপাত্র জানান, FIR মূলত রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে নয়। তিনি ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রিলায়েন্স ক্যাপিটালের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই বোর্ড বাতিল করে দেয়। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।