Last Updated:
Supreme Court on CJP Protest: ছাত্র বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, বলপ্রয়োগ নয়, আন্দোলনকারীদের কথা শুনেই পরিস্থিতির সমাধান খোঁজা উচিত।
ছাত্র বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযম প্রদর্শনের পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মৌখিক পর্যবেক্ষণে জানায়, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ মিছিল বা প্রতিবাদের সময় প্রশাসনের উচিত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।
ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করে আদালত। দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে দায়ের হওয়া অন্যান্য মামলার সঙ্গে এই মামলাটিও একসঙ্গে শুনানির সিদ্ধান্ত নেয় বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হল আন্দোলনকারীদের কথা শোনা। তাঁরা কেন আন্দোলন করছে, তা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। এরা তরুণ-তরুণী, তাঁদের প্রয়োজন সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা।” আদালতের মতে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আগ্রাসী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং নতুন করে হিংসার জন্ম দিতে পারে।
একই সঙ্গে আদালত জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, সেই বিষয়ে তাদের উপরই আস্থা রাখা উচিত। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যও শুনে পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানায় বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, NEET-UG প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দিল্লির জন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ বাঁধে। দিল্লি পুলিশের দাবি, ঘটনায় ৬৫ জনের বেশি বিক্ষোভকারী এবং ২০০-রও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন।
পরে অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভ দমনে প্লাস্টিক পেলেট ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তে জানা যায়, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর এক সদস্য সাত রাউন্ড পেলেট ছোড়েন, যার পাঁচটি আন্দোলনকারীদের গায়ে লাগে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ৩৬ দিনের অবস্থান-বিক্ষোভ তুলে নিয়েছে CJP। সংগঠনের দাবি, কেন্দ্র তাদের একাধিক দাবি মেনে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনার আশ্বাস।
Kolkata,West Bengal
