ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই আল জাজিরাকে নিশ্চিত করেছেন যে, কাতার ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এসব শর্ত পাঠানোর পর এখন ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
দোহার মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাবে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের প্রধান দাবিগুলো মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়কে কেন্দ্র করে:
যুদ্ধবিরতি ও সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ: সব সক্রিয় ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মিত্র বাহিনী জড়িত আঞ্চলিক সংঘাতগুলোরও সমাধান করতে হবে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে।
জব্দ করে রাখা সম্পদ মুক্ত করা: আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ বা আটকে থাকা ইরানের সরকারি তহবিল ও আর্থিক সম্পদ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।
রেজাই দাবি করেছেন, এসব শর্ত মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্যও উপকারী হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চাপ বা হুমকি দিয়ে তেহরানের কাছ থেকে কোনো ছাড় আদায় করা সম্ভব হবে না। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আগের সরাসরি ও পরোক্ষ আলোচনা ভেঙে পড়ার পর কাতারের কূটনৈতিক চ্যানেলটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এর আগে একাধিক সমঝোতা স্মারক নিয়েও আলোচনা হলেও তা শেষ পর্যন্ত এগোয়নি।
অন্যদিকে, সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক রুটগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর মোতায়েনের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রেখেছে। তেহরানও কৌশলগত জলপথের কাছে সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের পাল্টা প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান বৃহত্তর কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে কতটা আগ্রহী, তা ওয়াশিংটন মূল্যায়ন করছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার মতো কাঠামোগত নিশ্চয়তা ছাড়া এ ধরনের দাবিকে যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বাস্তবসম্মত বলে মনে করেনি।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এখন মূল সিদ্ধান্তের ভার হোয়াইট হাউসের ওপর। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা মূল্যায়ন করছেন, ইরানের এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার ভিত্তি হতে পারে কি না।
বিশ্বের জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা যখন বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তখন কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবই নির্ধারণ করতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপথ। সংঘাত কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে এগোবে, নাকি আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে—এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।