নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ভীষণ যুদ্ধের আবহেও ভারতের GDP ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি কেন্দ্রের। সেই নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে GDP বৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বিরোধীরা তো বটেই, মোদি সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গও কেন্দ্রের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেই নিয়ে তরজার মধ্যে এবার সমালোচকদের জবাব দিল কেন্দ্র। (GDP Growth Figures)
এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের GDP বৃদ্ধির হার নিয়ে যে বিতর্ক, তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। সরাসরি কারও নাম মুখে আনেননি তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, “টিভিতে দেখলাম বিরোধী শিবিরের কিছু নেতানেত্রী, প্রাক্তন এক অর্থসচিব বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর…যাঁরা নিজেদের কার্যকালের মেয়াদও শেষ করতে পারেননি, তাঁরা মানুষকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছেন। বৃদ্ধির হারকে নানা ভাবে তুলনা করছেন। ওঁরা ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করছেন। জানতে চাইছেন, কোনও কাজ আছে কি? আসলে হজম হচ্ছে না যে কেবলমাত্র তাঁরাই বেকার। এখন একটাই কাজ ওঁদের, টিভি চ্যানেলের প্যানেলে বসা এবং নানা যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।” (GDP Growth Rate)
আরও পড়ুন: চাঁদের জন্ম মাত্র ৫ ঘণ্টায়? পৃথিবীর উপগ্রহ আসলে কার শরীরের অংশ? নয়া তথ্য় হাতে এল
কেন্দ্র GDP বৃদ্ধির যে হার প্রকাশ করেছে, তার সপক্ষে পীযূষ বলেন, “সত্য চাপা থাকে না। আমারে মন্ত্রক ডেটা তৈরি করে না। নেতিবাচক মানসিকতা থেকে আসলে নিজেকেই ছোট করছেন ওঁরা। সত্য বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অর্থ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। আমারা ৭.৮ শতাংশ হারে GDP-র বৃদ্ধি ঘটাতে পেরেছি। দেশের ১৪০ কোটি পরিশ্রমী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্ভব হয়েছে এটা। ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি দূরদর্শিতার প্রমাণ দিয়েছেন। কিছু বেকার লোকজন নিজেদের অর্থনীতিবিদ বলে দাবি করছেন এবং টিভি চ্যানেলে গিয়ে দেশের ক্ষতি করছেন। ওঁদের ফাঁদে পা দেবেন না।”
তবে GDP নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এর আগে ভারতকে ‘মৃত অর্থনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই নিয়ে লাগাতার কেন্দ্রকে আক্রমণ করে গিয়েছেন বিরোধীরা। সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে GDP বৃদ্ধির নয়া হার ঘোষণার পরও বিতর্ক তুঙ্গে। মোদি সরকারেরই প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। NDTV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “৭.৮ শতাংশ চোখে দেখতে ভাল লাগছে অবশ্যই। কিন্তু বাস্তবটা বোঝা দরকার। গত বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকেও ৭.৮ শতাংশ হারে GDP বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছিল। পরে সংশোধন করে তা নামিয়ে আনা হয় ৬.৯ শতাংশে। গত বছরের GDP বৃদ্ধির হার সংশোধন না করা হলে, বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী বৃদ্ধির হার হতো ২.৬ শতাংশ।” চলতি বছরের GDP বৃদ্ধির হার দেখিয়ে মুখরক্ষা করতেই আগের বছরের হিসেবে সংশোধন ঘটানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে সুভাষ বলেন, “সেটাই বলছি। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছি আমি। গতবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের GDP-কে বর্তমান মূল্যের সঙ্গে মেলালে তা নেমে আসে ৮০ ট্রিলিয়নে। ফলে এ বছরের হিসেব চোখে ভাল ঠেকে। আগের বছরের হিসেব না বদলালে বর্তমানে বৃদ্ধির হার হতো ২.৬ শতাংশ।”
আরও পড়ুন: সটান পায়ের উপর বাজ পড়ল, দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন যুবক, তার পর…ভিডিও ভাইরাল
শুধু সুভাষই নন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনও মোদি সরকারের সাম্প্রতিক GDP বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, GDP বৃদ্ধির হার যদি এতই হয়, তাহলে যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান হচ্ছে না কেন? সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বৃদ্ধির এই হার কি সঠিক? বৃহত্তর ক্ষেত্রেও উদ্বেগ চোখে পড়ছে। কিছু গড়বড় চোখে পড়ছে। এত বৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থান নেই কেন? ভাল চাকরি কেন নেই? কেন বিনিয়োগ আসছে না? বিনিয়োগে কেন ইতস্তত করছেন শিল্পপতিরা? কেন বড় বিনিয়োগ আসছে না? সংখ্যা নিয়ে ছেলেখেলা করা যেতেই পারে। কিন্তু কতদিন? জনসংখ্যাই আমাদের ডিভিডেন্ট। অথচ সেই ডিভিডেন্টই হারানোর পথে আমরা।”
Infosys-এর প্রাক্তন CFO তথা Aarin Capital-এর চেয়ারম্যান মোহনদাস পাই আবার সরাসরি মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ভুয়ো ভাষ্য তৈরি করে জনমানসে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কিছু স্বার্থান্বেষী লোকজন কর্মসংস্থান নিয়ে ভুয়ো ভাষ্য তৈরি করছে। অথচ দুঃখজনক বিষয় হল EPFO এখন আর মাসিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে না…সেখান থেকে নতুন কর্মসংস্থান, কর্মরত মানুষের লিঙ্গ, বয়স, শিল্পক্ষেত্র এবং রাজ্যভিত্তিক সামগ্রিক তথ্য় ও চিত্র পাওয়া যেত। দয়া করে সেটি পুনরায় চালু করুন’। বিরোধী শিবিরের রাজনীতিকরাও সাম্প্রতিক প্রকাশিত GDP বৃদ্ধির হার নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলে চলেছেন। সেই আবহেই কেন্দ্রের তরফে তাঁদের সমালোচনা করতে এগিয়ে এলেন পীযূষ।