নয়াদিল্লি: মুখ ভাড়া দিয়ে মোটা টাকা রোজগারের সুযোগ চিনে। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে যখন আশঙ্কা, উদ্বেগ বাড়ছে চতুর্দিকে, সেই সময়ই চিনের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে AI. ডিজিটাল ফেস লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্মগুলি মোটা টাকা রোজগারের সুযোগ দিচ্ছে। কয়েকশো বা কয়েক হাজার নয়, ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারের সুযোগ মিলছে সেখানে। (AI Face Licensing)
চিনা সিরিয়াল, ছবি বরাবরই জনপ্রিয়। বর্তমানে সেখানে AI দিয়ে তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিরিয়াল, বিজ্ঞাপন এবং ভিডিও গেমের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। কিন্তু AI দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ বানানোর পরিবর্তে, টাকার বিনিময়ে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অন্যের মুখ। অর্থাৎ AI দিয়ে কোনও ব্যক্তির মুখের আদলে গল্পের চরিত্র তৈরি করা হচ্ছে। বিনিময়ে মোটা টাকা হচ্ছে ওই ব্যক্তিকে। (Facial Data Monetisation)
চিনে এই মুহূর্তে বিনোদন জগতের খোলনলচে বদলে দিচ্ছে AI. মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে একাধিক ডিজিটাল ফেস লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ মানুষ থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, মজেলরা সেখানে গিয়ে নিজের মুখের লাইসেন্স করিয়ে নিচ্ছেন। সেই লাইসেন্স দেখিয়ে প্রযোজনা সংস্থাগুলিকে মুখ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। AI-এর সাহায্য়ে ওই সব মুখের আদলে চরিত্র তৈরি করে বোনা হচ্ছে গল্প।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিনমাসেই চিনে ১ লক্ষ ২৮ হাজারের ৯৫ শতাংশ মুক্তি পেয়েছে চিনে। সেগুলিতে একাধিক চরিত্র তৈরি করা হয়েছে অন্যের মুখের আদলে। তবে কারও অসম্মতিতে বা কাউকে না জানিয়ে নয়। কারও মুখ ব্যবহারের আগে চুক্তি করা হয়েছে। টাকা পেয়েছেন সেই ব্যক্তি। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ জানিয়েছে, এক ব্যাঙ্ক কর্মী বিজ্ঞাপনের জন্য নিজের মুখ ভাড়া দিয়েছিলেন। তিনদিনে সাত বার তাঁর একটি ছবি ব্য়বহার করেছিল ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা, যা থেকে তিনি ২৫০০ ইউয়ান আয় করেছিলেন, ভারতীয় মুদ্রায় তা প্রায় ৩৫ হাজার ৩৩৭ টাকা।
এব্যাপারে সবচেয়ে এগিয়ে শেংঝেনের Yuanxiang Xinsheng সংস্থা। মে মাসে যাত্রা শুরু হয় তাদের। মানুষকে ‘ডিজিটাল অ্যাক্টর প্রোফাইল’ তৈরির সুযোগ করে দেয় তারা। সেই মতো নাম, ছবি দিয়ে নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন বহু মানুষ। পরিচয় যাচাই করে দেখা হয় সকলের। কত দিনের জন্য, কী ধরনের কাজে তাঁদের মুখের আদলে তৈরি AI চরিত্র ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়ে নিজেদের মতামতও জানানোর সুযোগ থাকে। আয় হয় ৪ হাজার ৭০০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
Yuanxiang Xinsheng প্ল্যাটফর্মে ৩৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তি নিজের মুখ ভাড়া দিয়েছিলেন। একবার তাঁর মুখ ব্যবহারের ফি ৯৯ ইউয়ান, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪০০ টাকা। রোম্যান্টিক, পরিবার নির্ভর গল্পে নিজের মুখ ভাড়া দেন তিনি। হরর, যৌনতার গল্পে ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেন না তিনি। গুয়াংদংয়ের বাসিন্দা এক মহিলা জানান, নিজের ডিজিটাল পরিচয় রক্ষার্থেই ওই প্ল্যাটফর্মে নাম লেখান তিনি। যাতে তাঁর ডিজিটাল পরিচয়, তাঁর অনুমতি ছাড়া, নিখরচায় কেউ ব্যবহার করতে না পারে। নিজের ডিজিটাল পরিচয় নিজের হাতে রেখেছেন তিনি। নিজের পছন্দ মতো ব্যবহার করতে দেন, যা থেকে টাকাও আসে ঘরে।
এপ্রিল মাসে Xinzhua নামের এর একটি প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করে। সেখানে ৩৭০ জন ডিজিটাল অভিনেতার প্রোফাইল রয়েছে। সেগুলি ব্যবহারের ফি ৭০০০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মতো। খলনায়িকা, বিদেশিনী, মৃত মহিলা, সাহসী পোশাক পরিহিত মহিলার চরিত্রেও নিজের মুখ ব্যবহারের অনুমতি দেন অনেকে। বয়স, স্টাইল অনুযায়ী মুখ বেছে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে সেখানে।
যদিও এই ডিজিটাল মুখ ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার, শিশুদের মুখ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কী মর্মে তাঁদের ছবি ব্যবহার করা হবে, সম্মতিচুক্তির ফাঁকফোকর নিয়েও ধরা পড়ছে উদ্বেগ। নির্ধারিত সময়ের আগে চুক্তি থেকে সরে আসতে গেলে জরিমানার নিদানও রয়েছে প্রায় ৭.১৫ লক্ষ টাকার। অথচ ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনও সময়সীমা নেই।
তাছাড়া, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুমোদন প্রত্যাহার করার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের অন্তত ৫০,০০০ ইউয়ান (৭,৫০০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে; অথচ অর্থ পরিশোধে বিলম্বের ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর অনেক কম দায় বর্তায়।
Haridevpur News | হরিদেবপুর নেতাজি পল্লিতে সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুর, দেওয়ালে রঙ করে তাদের ঝান্ডা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে