তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: ২০২৪ সালের পুজোয়, এই সিনেমার অংশ ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ছবির সিক্যুয়ালে তাঁর চরিত্র নেই। বরং এবার পুজোয়, অন্য সিনেমা, অন্য গল্প, অন্য প্রযোজনা সংস্থার ছবি নিয়ে, ‘বহুরুপী’-র মুখোমুখি তিনি। আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee)। এবার পুজোয়, নন্দী মুভিজ প্রযোজিত এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherji) পরিচালিত সিনেমা, ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ (Emperor vs Sarat Chandra)-তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করছেন, আবির চট্টোপাধ্যায়। ২০২৪ সালে উইন্ডোজ প্রযোজনা সংস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছিল ‘বহুরূপী’ ছবিটি। সেই ছবিতে মুখ্যভূমিকায় ছিলেন, আবির চট্টোপাধ্যায়। বক্সঅফিসে উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করেছিলেন এই সিনেমা। এবারের পুজোতেও মুক্তি পাবে, ‘বহুরূপী’-র সিক্যুয়াল। ‘বহুরূপী-দ্য গোল্ডেন ডাকু’। সিক্যুয়ালে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee) ও কৌশানী মুখোপাধ্যায় (Koushani Mukherjee) থাকলেও, আবির চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্র নেই সিক্যুয়ালে।
একসময়ে ‘বহুরূপী’-র নায়ক, এবার ‘বহুরূপী’-র মুখোমুখি!
এক সময়ের ‘বহুরূপী’ অভিনেতা, এবারের পুজোয় ‘বহুরূপী’-র মুখোমুখি, বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন আবির চট্টোপাধ্যায়? অভিনেতা বলছেন, ‘২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘বহুরূপী’, প্রভূত সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু সেই সময়েই আমি বলেছিলাম, এি ছবিটার সিক্যুয়ালের বিষয়টা আমার খুব একটা আকর্ষণীয় বলে মনে হচ্ছে না। আমার মনে হয়েছে, আমার যতটুকু করার ছিল, সেটা ‘বহুরূপী’-র প্রথম ভাগেই শেষ। ওঁদের সেই কথা বুঝিয়ে বলেছিলাম। এই ছবিটা নিয়ে সিক্যুয়াল পরিকল্পনা করা হলে, সেখানে আমার চরিত্রটার আর নতুন করে কিছু করার থাকবে না বলেই মনে হয়েছিল। তাই বলেছিলাম, ‘সিক্যুয়ালে আমায় না ভাবলেও পারো।’ ‘বহুরূপী’ শেষ হওয়ার পরে বুঝতে পেরেছিলাম, ‘বহুরূপী-২’ এর পরিকল্পনা হলেও হতে পারে। সেই কারণে শিবুদাদের বলে দিয়েছিলাম। ওঁরা আমার মতামতটাকে সম্মান দিয়েছেন। সেই সময়ে ‘রক্তবীজ ২’-এর প্রস্তুতি চলছে।’ আবির আরও বলেন, ‘আমি অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি করেছি, করি। ‘বহুরূপী’-র প্রথম ভাগটা যেহেতু আমি করেছি, সেই কারণে ওই গল্পটা নিয়ে আমি অনেক ওয়াকিবহাল। কিন্তু আপাতত আমি শুধুমাত্র ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-নিয়েই ভাবতে চাই।
আবির ব্যক্তিগতভাবে কী পছন্দ করেন? ফ্র্যাঞ্চাইজি নাকি একক একটা ছবি? অভিনেতা বলছেন, ‘সোনাদা হলে অবশ্যই ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে আমি অভিনেতা হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন রিস্ক নিতে চাই। কিন্তু বর্তমানে অনেক ছবিই ফ্র্যাঞ্চাইজি-নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। প্রযোজকেরা একটা ছবির সাফল্য দেখে মনে করছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি করাই ভাল।’ ফ্র্যাঞ্চাইজি করতে গিয়ে কী একঘেয়েমি আসে আবিরের? অভিনেতা বলছেন, ‘না.. ওই কন্টিনিউইটি বজায় রাখাও একটা অন্য চ্যালেঞ্জ। তবে অন্যরকম চরিত্র হলে নতুনভাবে নিজেকে ভাঙার সুযোগ পাই। সেই অভাববোধটা মাঝে মাঝে বোধ হয় বৈ কি।’
আরও পড়ুন: Srijit Mukherji: সরকার বদল না হলে, ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’-এর মুক্তিতে সমস্যা হতে পারত: সৃজিত মুখোপাধ্যায়