Last Updated:
৩০ সেপ্টেম্বর ১৮০ জন যাত্রীকে নিয়ে দুবাই থেকে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। গন্তব্য ছিল ইজরায়েলের তেল আভিভ। তবে মাঝ-আকাশেই ঘটে যায় বিপত্তি। বিমানটি চালাচ্ছিলেন স্মিত। কো-পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন হাম্মাম-আল হাম্মামি। অভিযোগ, বিমান মাঝ-আকাশে থাকাকালীন ককপিটের ভিতরে স্মিতকে আক্রমণ করেন তিনি। এর ফলে বিমান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায় বিমানটি। সেই ঘটনা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই ঘটনার নেপথ্যে কোনও জঙ্গিযোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে। হাম্মাম বর্তমানে আমিরশাহির নিরাপত্তাকর্মীদের হেফাজতে রয়েছেন। সূত্রের খবর, সেখানেই অভিযোগ ‘স্বীকার’ করেছেন তিনি।
তেল আভিভ: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের মাঝ আকাশে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক এক তথ্যপ্রকাশে একাধিক নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির বিষয়টা সামনে এসেছে।
ককপিটে হামলার ঘটনায় তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। জানা গিয়েছে, যাত্রার আগে তারা বিমানটির ক্রুদের তালিকা ইজরায়েলের সঙ্গে শেয়ার করেছিল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, হাম্মাম আল-হাম্মামি নামে চিহ্নিত ওই ওমানি কো-পাইলটের অতীত নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে তেল আভিভগামী বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
হাম্মাম আল-হাম্মামিকে ওমানে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল:
ককপিটের ভিতরে ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে হামলা করা ওই ওমানি কো-পাইলট কোনও বাধা ছাড়াই দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানে উঠতে সক্ষম হন। ওমানের সঙ্গে ইজরায়েলের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও তিনি ইজরায়েলি যাত্রীদের নিয়ে তেল আভিভগামী বিমান পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিলেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উগ্রপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে হাম্মামির যোগসূত্র নিয়ে উদ্বেগের কারণে নিজের দেশে ওমান তাঁকে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। UAE জানিয়েছে, ওই কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর হামলা করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে “সন্ত্রাসবাদী হামলা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে বিমানটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে ক্যাপ্টেন মচ্ছার শেষপর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন।
আমিরশাহির আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি উড়ে যাওয়ার আগে UAE যাত্রী ও ক্রুদের বিস্তারিত তথ্য, তাঁদের পরিচয়-সহ সব তথ্যই ইজরায়েলের সঙ্গে শেয়ার করেছিল। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, বিমানে থাকা কারও বিষয়ে কোনও উদ্বেগের কথা জানানো হয়নি।
ইজরায়েলের শিন বেত (Shin Bet) জানিয়েছে, যাত্রী তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্ব পরিবহণ মন্ত্রকের। অন্যদিকে, মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা কোনও যাত্রী তালিকা বা সতর্কবার্তা পায়নি। কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে এই ধরনের তথ্য আদান-প্রদান বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত প্রথা। তবে সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশগুলির পাইলটরা যাতে ইজরায়েলে উড়ে আসতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে ইজরায়েলের চুক্তি রয়েছে।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিমানে ওঠার আগে একাধিক পর্যায়ের যাচাই পর্বে কীভাবে ওই কো-পাইলট পার হয়ে গেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
