আমেরিকার শ্রম দফতরের Permanent Labour Certification (PERM) কর্মসূচির আওতায় সাসপেনশনের মুখে পড়েছে ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবিও। ভিসার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ এবং একাধিক চলমান ফেডারেল তদন্তের সঙ্গে এই পদক্ষেপের যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, শ্রমসচিব কিথ সন্ডারলিং এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ। প্রশাসনের জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে গিয়ে কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, HCL এবং ক্যাপজেমিনির নাম উল্লেখ করেন কিথ সন্ডারলিং। এই তালিকায় রয়েছে মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবিও।
সন্ডারলিং জানান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির নতুন PERM আবেদন গ্রহণ করা হবে না। পাশাপাশি, আগে জমা পড়া যেসব আবেদন এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে, সেগুলির প্রক্রিয়াকরণও বন্ধ থাকবে।
তাঁর অভিযোগ, মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে এই সংস্থাগুলি ব্যাপকভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কর্মসূচির সুবিধা নিয়েছে।
সন্ডারলিং বলেন, “২০০৯ সাল থেকে শুধুমাত্র এই সংস্থাগুলিই প্রায় ৩০ লক্ষ বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করেছে।” তাঁর আরও দাবি, এই সংস্থাগুলি ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি H-1B ভিসার অনুমোদন পেয়েছে এবং ১ লক্ষেরও বেশি স্থায়ী শ্রম শংসাপত্র লাভ করেছে।
প্রতি বছর অনুমোদিত H-1B ভিসার আবেদনের ৭০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় পেশাদারদের হয়ে থাকে। ফলে আমেরিকার এই পদক্ষেপ ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প এবং সে দেশে কাজের সুযোগ খুঁজছেন এমন ভারতীয় কর্মীদের কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
মাইক্রোসফটকে বিশেষভাবে নিশানা করেছেন জেডি ভ্যান্স। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটি আমেরিকায় কর্মীদের ছাঁটাই করলেও বিদেশি কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের আরও দাবি, ২০২৫ সালে মাইক্রোসফট আমেরিকায় ৬,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। তার আগে সংস্থাটি শংসাপত্র দিয়েছিল যে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।
ভ্যান্সের অভিযোগ, এর পরেই মাইক্রোসফট ৬,০০০-এরও বেশি H-1B ভিসার অনুমোদন পায় এবং ৩,৬৮২টি PERM আবেদন জমা দেয়। ওই আবেদনগুলির মধ্যে প্রায় ১,০০০টি এমন পদের জন্য ছিল, যেগুলির সঙ্গে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কাজের যথেষ্ট মিল ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমেরিকায় আর কোনও সংস্থা এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করার ক্ষেত্রে মাইক্রোসফটের চেয়ে এগিয়ে নেই।”
তবে ভ্যান্সের অভিযোগের জবাবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে তাদের প্রায় ৬,০০০টি H-1B আবেদনের ৮০ শতাংশই ছিল আগে থেকে সংস্থায় কর্মরত কর্মীদের জন্য। নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নয়।
শুধু প্রযুক্তি সংস্থা নয়, আমেরিকার নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে J-1 এক্সচেঞ্জ ভিজ়িটর কর্মসূচি নিয়েও তদন্তের ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই তালিকায় রয়েছে হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড এবং ক্যালটেকের মতো প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়।
ভ্যান্সের অভিযোগ, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে আমেরিকার স্নাতক এবং শিক্ষাবিদদের পরিবর্তে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ করছে।
উল্লেখ্য, J-1 ভিসার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা গবেষণা, শিক্ষাদান, পড়াশোনা এবং অনুমোদিত অন্যান্য বিনিময়মূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারেন।
আমেরিকার এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়োগ ও কর্মী-স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তেমনই H-1B ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় পেশাদারদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে PERM আবেদন স্থগিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আগে থেকেই অনুমোদিত সমস্ত গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।