বর্ণবিদ্বেষবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডলা এবং অন্য আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলাতে আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইনের ভূখণ্ডবিষয়ক রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। এছাড়া, ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) একজন অ্যাডহক বা বিশেষভাবে নিযুক্ত বিচারক হন। সেখানেই তিনি যৌনহিংসাকে গণহত্যার আখ্যা দিয়েছিলেন।
নোবেল কমিটির মতে, একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হল- এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসনভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিচারিক দায়িত্ব পালনে তার কঠোর নীতিনিষ্ঠা, সততা ও অসাধারণ সাহসিকতার প্রশংসা করেছে নোবেল কমিটি।
ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল নাভানেথেম নাইডু।
তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে নিয়োগ পাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারপতি। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিজে) বিচারপতি এবং রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণের লক্ষ্যে সংগ্রামের জন্য তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখার রীতি রয়েছে।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।