নয়াদিল্লি: আমেরিকায় জোর ধাক্কা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের মাত দিল ডেমোক্র্যাটরা। এখনও পর্যন্ত গণনার যে ফল প্রকাশিত হয়েছে, সেই অনুযায়ী, নিম্নকক্ষ সেনেটে ৫৩টি আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাচ্ছে। অন্য দিকে, হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ২৩১টি আসনে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে ঢুকছে, রিপাবলিকানরা আটকে থাকছে ১৬৮টি আসনে। দুই ক্ষেত্রেই ম্যাজিক সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। (US Midterm Election Results)

চার বছর অন্তর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। তবে দু’বছর অন্তর হয় মিডটার্ম নির্বাচন, যার মাধ্য়মে কংগ্রেসে কারা থাকবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেন আমেরিকার সাধারণ মানুষ। মিডটার্ম নির্বাচনের ফলাফলই ঠিক করে দেয়, কোন দলের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আমেরিকার সরকারের হয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেসই। নিম্নকক্ষ সেনেট এবং উচ্চকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মিলিয়ে কংগ্রেসের মোট সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। (Donald Trump)

আরও পড়ুন: ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে শোরগোল, মিডটার্মে পরাজয় আঁচ করেই কি?

এই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতে থাকে, সরকারের নীতিনিয়মও তারাই পরিচালনা করে। ট্রাম্প রিপাবলিকান। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য থাকলে আর নিজের ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না তিনি। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পেক বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করা যাবে। আনা যাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও। তবে এবার যে ট্রাম্প সুবিধাজনক জায়গায় নেই, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। আমেরিকার সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর অ্যাপ্রুভাল রেটিং, অর্থাৎ গ্রহণযোগ্যতা নেমে এসেছিল ৩৭ শতাংশে। ৬২ শতাংশ মানুষই তাঁর বিরুদ্ধে মতামত জানান। নির্বাচনের ফলাফল বেরোতে দেখা গিয়েছে, চিরাচরিত ভাবে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনগুলিতেও এবার ফলাফল উল্টে গিয়েছে। লাল নয়, বরং নীল ঝড় চোখে পড়ছে সর্বত্র।

এদিন ফলাফল যত স্পষ্ট হতে থাকে, ততই নিজের মতো করে প্রতিক্রিয়া দিতে থাকেন ট্রাম্প। ব্যালটে তাঁর নাম বা ছবি থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতো বলে দাবি করেন। একটা সময় পর ডেমোক্র্যাটদের জয় কার্যত মেনে নেন তিনি। জানান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবেন। পরে আবার নিজের ‘ভেটো’ ক্ষমতাও স্মরণ করিয়ে দেন, যে ক্ষমতা ব্য়বহার করে কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাস হওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারেন তিনি। কংগ্রেস ট্রাম্পের ভেটো উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে, তবে সেক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন তাদের। 

আরও পড়ুন: আর চলবে না আধার, সরকারি প্রকল্পে টাকা পেতে দিতে হবে ভোটার আইডি, বায়োমেট্রিকস, জানালেন মন্ত্রী

তবে এবারের মিডটার্মের ফলাফল ট্রাম্পের জন্য় উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বাণিজ্যনীতি থেকে জেফ্রি এপস্টিন ফাইলস, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে আর কোনও বাধা থাকবে না। ট্রাম্পকে ইমপিচ করার প্রস্তাবও আনা যেতে পারে এবার। আবার এই ফলাফলের জন্য ট্রাম্পকেই দায়ী করছেন রিপাবলিকানদের একাংশ। তাঁদের মতে, মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার আমেরিকার সাধারণ নাগরিক। রোজগার খরচ-খরচা সামলে উঠতে পারছেন না তাঁরা। সেই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার খেসারতও দিতে হল ট্রাম্পকে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যে মিডটার্মের ফলাফলে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তা মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প নিজেও। 

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog PageLoader | Loading Screen and Progress Bar for WordPress PageLoader: WordPress Preloader and Progress Bar Paid Memberships PRO for AMP Paint – Painting Company WordPress Theme Paintable – Photography / Photos Blog Theme Paintify – Room Paint Color Visualizer Plugin | WooCommerce WordPress PaintMyRide – Car Painting & Modification Elementor Template Kit Paintters – Painting Service Elementor Template Kit PairGiver – Senior Care WordPress Theme Pajax – Tax Advisor & Financial Consulting Elementor Template Kit