ইভিএম সিল- ভোটদান শেষ হওয়ার পর ব্যালট ইউনিট, কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভিভিপ্যাট সুইচ অফ করে বিভিন্ন দলের এজেন্টদের সামনেই একাধিক সিল করা হয়৷ এর পর এই সিলগুলি সঠিক হয়েছে তা মান্যতা দিয়ে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং নির্বাচনী দলের এজেন্টরা সই করেন৷ এর পরে যদি কোনওভাবে সিল ভাঙার চেষ্টা হয়, তাহলে তা খালি চোখেই ধরা পড়বে৷
নিরাপদে ইভিএম স্ট্রং রুমে পৌঁছে দেওয়া- ইভিএম সিল করার পর কড়া নিরাপত্তায় সেগুলি স্ট্রং রুমে পৌঁছে দেওয়া হয়৷ ইভিএম স্ট্রংরুমে নিয়ে যাওয়ার সময় জিপিএস-এর মাধ্যমে সেই গতিবিধির উপরে নজর রাখা হয়৷ পাশাপাশি প্রার্থী অথবা তাঁদের এজেন্টরাও চাইলে ইভিএম স্ট্রংরুমে পৌঁছে দেওয়ার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন৷
এর পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইভিএম স্ট্রং রুমে রাখা থাকে৷ যতক্ষণ ইভিএম স্ট্রংরুমে থাকে, তার উপর নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি চলে৷ এই স্ট্রংরুমগুলিতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা থাকে৷ স্ট্রংরুমের দরজায় ডবল তালা, আধা সেনার নিরাপত্তার পাশাপাশি একটানা সিসিটিভি ক্যামেরাও চলে৷ যাতে বেআইনি ভাবে কেউ স্ট্রংরুমে ঢুকতে না পারে৷
প্রার্থীরা চাইলে তাঁদের প্রতিনিধিদের স্ট্রংরুমের বাইরে বসিয়ে রাখতে পারেন৷৷ সিসিটিভি-র ছবিও চাইলে তাঁরা দেখতে পারেন৷ ফলে শুধুমাত্র কমিশনের আধিকারিকরাই নন, স্ট্রং রুমের ভিতরে কী ঘটছে, তার উপর রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও নজর রাখতে পারেন৷ যাতে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে৷
স্ট্রংরুমে প্রবেশাধিকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ কোনও কারণে ইভিএম সরানো অথবা ইভিএমে হাত দিলে তার লগবুকে নথিভুক্ত করতে হয়৷ জরুরি পরিস্থিতিতেও যদি স্ট্রংরুম খুলতে হয় সেক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই তা করতে হবে৷
গণনার দিনও প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টদের সামনেই ইভিএম-এর সিল পরীক্ষা করা হয়৷ সিল যদি ঠিকঠাক থাকে তবেই সেই সিল খোলা হয়৷ তার পরে শুরু হয় গণনা৷ কন্ট্রোল ইউনিট থেকে ইভিএম-এর মজুত থাকা ভোটের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়৷
ইভিএমে ভোটদানের যে পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, তা সঠিক কি না পরীক্ষা করতে কয়েকটি বুথের ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট স্লিপে পড়ার ভোটের সংখ্যা মিলিয়ে দেখা হয় যে ইভিএমে ভোটের সঠিক সংখ্যা দেখাচ্ছে কি না৷
এই প্রক্রিয়াগুলির পুরোটাই নিয়মিত ভাবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সহ অন্যান্য আদালতে পরীক্ষিত হয়৷ দেশের শীর্ষ আদালতও ইভিএম ব্যবহারেই উৎসাহ দিয়েছে৷ একই সঙ্গে ভিভিপ্যাট পরীক্ষা মাধ্যমে অতিরিক্ত সতর্কতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত৷
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গণনা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা আরও বাড়াতে কিউআর নির্ভর আইডেন্টিটি কার্ড চালু করেছে নির্বাচন কমিশন৷ আগামী ৪ মে ভোটগণনার দিন বাংলা, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির গণনা কেন্দ্রে এই কিউআর নির্ভর আইকার্ড কাজ করবে৷
প্রথম দুই স্তরে গণণাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য তিন স্তরে পরিচয় যাচাই করা হবে৷ গণনাকেন্দ্রের বাইরে রিটার্নিং অফিসার প্রথমে অনুমোদিত প্রত্যেকের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন৷ এর পর তৃতীয় স্তরে কিউআর কোড স্ক্যান করে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে৷
রিটার্নিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার, গণনার কাজে নিযুক্ত কমিশনের কর্মী, প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনী এবং গণনা এজেন্টদের এই কিউআর নির্ভর পরিচয়পত্র দিয়েছে কমিশন৷
স্ট্রংরুমে তালা দিয়ে সিল করা হয়৷ বিশেষ প্রয়োজন এবং অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ স্ট্রংরুমে প্রবেশ করতে পারেন না৷ প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টদের সামনে স্ট্রংরুমের সিল পরীক্ষা করে তার পরই তা খোলা হয়৷ স্ট্রংরুমের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও সন্তোষ প্রকাশ করেছে৷ তবে ভিভিপ্যাট স্লিপ আরও বেশি করে মিলিয়ে দেখার সুপারিশও করেছে শীর্ষ আদালত৷