কলকাতা : হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়েছিলেন পুলিশকর্তা। তুমুল বিতর্কের মুখেও পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করেছে লালবাজার। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের কুণাল মুখপাত্র এবং এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘অতি পাকামি করতে গেছেন, ও সাসপেন্ড হয়ে যাওয়া দরকার। হয়ে গেছে, ভাল হয়েছে। পাকামি করতে গেছেন, ভেবেছেন যারা বসিয়েছে তাদের বোধহয় বন্দুক-ফন্দুক দেখিয়ে খুশি করলে বোধহয়… বিজেপির হয়ে কাজ করেছে, বিজেপির সুপারিশ হয়েছে… অবিলম্বে শুধু সাসপেন্ড নয়… যে ওসি নিজের চেয়ার পোজ দেন… পুলিশের অনেক ভাল কর্মী রয়েছেন, অনেক দায়িত্বশীল ওসি, অফিসার আছেন, তাঁরা কাজ করছেন। কিন্তু বিজেপির রেকমেন্ডেশনে বসে, যাঁরা বন্দুক তাক করে ভাবছেন একদম অনেক কিছু… এইসব মুজরো সিঙ্ঘমের ছোঁয়াচ লেগেছে। ওইসব ভাব দেখাতে গেলে সাসপেন্ড কেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনও থানায় ফিরতে না পারেন, দেখা উচিত।’
‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না’, ফলতার পুরো ভোট বাতিল, হুঙ্কার অভিষেকের
সোশাল মিডিয়ায় ছবি ঘিরে বিতর্কের জেরে সাসপেন্ড করা হল কালীঘাট থানার OC-কে। কালীঘাট থানার OC গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হল উল্টোডাঙা মহিলা থানার OC চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে সোশাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে, সাসপেন্ড হলেন কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস। নিজের চেয়ারে ইউনিফর্ম পরে, হাতে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পোজ দিচ্ছেন ওসি। পিছনে বোর্ডে জ্বলজ্বল করছে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসিদের নাম। আর ক্যাপশনে লেখা ‘রেডি ফর নিউ অ্যাসাইনমেন্ট’। কালীঘাট থানার ওসির এই ছবি ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এই নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অভিযোগ জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। একইসঙ্গে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও দেওয়া হয়েছে চিঠি। সেখানে লেখা হয়েছে, ছবিটি শুধু অস্বস্তিকরই নয়, আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি হাতে একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অস্ত্র ধরে সামনের কাউকে লক্ষ্য করে আছেন।
প্রথমত, আমাদের রাজ্যে কর্তব্যরত কোনও পুলিশ কর্মকর্তা ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় নিজের ছবি তুলে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে পারেন না। কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারের গাইডলাইন রয়েছে। তাঁকে এমন অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল কিনা বা তিনি এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারে প্রশিক্ষিত কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই, কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। ছবি বিতর্কের পর, লালবাজার সূত্রে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলা হচ্ছে, কলকাতা পুলিশের সোশাল মিডিয়া গাইডলাইন সমস্ত কর্মীদের মেনে চলতে হবে। না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।