Last Updated:
এবার পরিবর্তনের ডাকেই সায় দিল বাংলার জনমত। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র গেরুয়া ঝড়। আর সেই ঝড়ে মন্ত্রীদের বাধা আসনও এবার হাতছাড়া হয়েছে! মোদি-ম্যাজিকেই ফুটল পদ্ম। আর সেই ম্যাজিকে কার্যত ছু-মন্তর হয়ে গেল তৃণমূলের সাজানো সাম্রাজ্য।
কলকাতা: পদ্মশিবিরের ডবল সেঞ্চুরির সুনামিতে কার্যত ধুয়ে গিয়েছে বাংলার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর নাম। সেই তালিকায় কারা আছেন? দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বিধাননগর কেন্দ্রে, দমদম কেন্দ্রে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। স্বাস্থ্য ও অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দমদম উত্তর কেন্দ্রে হার হজম করতে হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ণ গুহ দিনহাটা কেন্দ্রে, সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া সবং কেন্দ্র থেকে এবং ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো শালবনিতে। এখানেই শেষ নয়, হারের মুখ দেখলেন আরও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। বিনপুর কেন্দ্র থেকে বীরবাহা হাঁসদা। চন্দননগর কেন্দ্র থেকে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী মন্তেশ্বর কেন্দ্র থেকে ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্র থেকে হেরেছেন। স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন ও পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও হেরে গিয়েছেন নিজের কেন্দ্র থেকে।
এবারের নির্বাচনে ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। দাঁড় করানো হয় নতুন প্রার্থী। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই হারলেন। জিতল বিজেপি। ভোট ঘোষণার পরেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল। সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় ৭৪ বিধায়ককে। নামায় নতুন প্রার্থী। কিন্তু তাতে কাজের কাজ হল না। অধিকাংশ আসনেই ধাক্কা খেল তৃণমূল। নাম বাদ পড়া বিধায়কদের মধ্যে অন্যতম হুগলির চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার। চুঁচুড়ায় এবার দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করে তৃণমূল। যিনি হারলেন বড় ব্যবধানে। জিতলেন বিজেপির সুবীর নাগ। বাঁকুড়ার রানিবাঁধে টিকিট পাননি বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি। তনুশ্রী হাঁসদাকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনিও বড় ব্যবধানে হারলেন বিজেপির ক্ষুদিরাম টুডুর কাছে। মালদহের মানিকচকের বিধায়ক ছিলেন সাবিত্রী মিত্র। তাঁকে এবার টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সেই আসনেও ফুটল পদ্ম। টিকিট পাননি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের সৌমেন মহাপাত্রও। সেখানেও ধরাশায়ী তৃণমূল। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তরের তিন বারের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। তাঁকেও এবার টিকিট দেয়নি তৃণমূল। প্রার্থী করা হয় বাম আমলের মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামীকে। এই আসনেও হারতে হল তৃণমূলকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পূর্ব- এখানে মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁর বদলে অসীম কুমার মাজিকে টিকিট দেয়। সেখানেও আশাভঙ্গ। বড় মার্জিনে হার তৃণমূলের। উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় মঞ্জু বসুকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। এই কেন্দ্রে বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হারতে হল তৃণাঙ্কুরকে। পানিহাটিতেও বিজেপির রত্না দেবনাথ হারিয়ে দিলেন নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে।
এবার পরিবর্তনের ডাকেই সায় দিল বাংলার জনমত। উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র গেরুয়া ঝড়। আর সেই ঝড়ে মন্ত্রীদের বাধা আসনও এবার হাতছাড়া হয়েছে! মোদি-ম্যাজিকেই ফুটল পদ্ম। আর সেই ম্যাজিকে কার্যত ছু-মন্তর হয়ে গেল তৃণমূলের সাজানো সাম্রাজ্য।
তবে ভরাডুবিতেও রণতরী ভাসিয়ে রাখলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী। বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘাসফুল শিবিরের পোড়খাওয়া রাজনীতিকদের তালিকায় অন্যতম নাম। অন্যদিকে কলকাতা বন্দর থেকেও ব্যাপক ব্যবধানে জয়ী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
Kolkata,West Bengal
