২৯৪টি আসনের মধ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়েছে ২০৭টি আসনে৷ তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন৷ ফলতার ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা যথাক্রমে ২১ মে এবং ২৪ মে৷
১) রাজ্যপালের মাধ্যমে বরখাস্ত (Dismissal by Governor):ভারতের সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের “সন্তুষ্টি” (Pleasure) সাপেক্ষে পদে থাকেন। যেহেতু নির্বাচন হেরে যাওয়ার অর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো, তাই রাজ্যপাল নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন।
২)অনাস্থা প্রস্তাব ও ফ্লোর টেস্ট (No-Confidence Motion):রাজ্যপাল বিধানসভার অধিবেশন ডেকে মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে আস্থা ভোট বা ‘ফ্লোর টেস্ট’ (Floor Test) প্রমাণ করতে বলতে পারেন। যদি মুখ্যমন্ত্রী তাতে ব্যর্থ হন বা ফ্লোর টেস্টের মুখোমুখি হতে অস্বীকার করেন, তবে রাজ্যপাল তাকে বরখাস্ত করতে পারেন।
৩) রাষ্ট্রপতির শাসন জারি (President’s Rule – Article 356):যদি পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করে অচলাবস্থা তৈরি করেন, তবে রাজ্যপাল মনে করতে পারেন যে রাজ্যে সাংবিধানিক শাসন চলছে না। এমতাবস্থায়, রাজ্যপাল সংবিধানে ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন।
৪)প্রশাসনিক ব্যবস্থা:যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো ব্যক্তির আর আইনত শাসন করার অধিকার থাকে না, তাই রাজ্যপাল প্রশাসনিক সচিবদের (Administration) পরামর্শ দিতে পারেন যে তারা যেন পরাজিত মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে না চলেন।সারসংক্ষেপ:নির্বাচনী পরাজয়ের পর ইস্তফা দেওয়া প্রথা এবং গণতান্ত্রিক দায়িত্বের অংশ। মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে রাজ্যপাল তাকে বরখাস্ত করার পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখেন।
রাজ্য বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার পদটি একটি সংবিধিবদ্ধ পদ, সাংবিধানিক নয়। বিরোধী দল এবং বিধানসভার স্পিকার উভয়ের অংশগ্রহণে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়।
১. পদটি দাবি করতে হলে একটি রাজনৈতিক দলকে দুটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হবে:
২. দলটিকে অবশ্যই বিধানসভার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হতে হবে, যারা সরকারের অংশ নয়। প্রথা অনুযায়ী, দলটিকে সংসদের মোট আসনের কমপক্ষে এক-দশমাংশ (10%) আসন পেতে হবে।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়, আনুষ্ঠানিকভাবে পদটি দাবি করার জন্য একটি দলের কমপক্ষে ৩০টি আসন প্রয়োজন। কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতা ১০ শতাংশ আসন না পেলেও, স্পিকার তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বাংলার ক্ষেত্রে, এই পদের জন্য তৃণমূল যোগ্য৷