Last Updated:
Money Making Tips: পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির দীপক দাস এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। নিজের এক চিলতে উঠোনে বিদেশি অর্কিড চাষ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সদিচ্ছা থাকলে সাধারণ বাগান থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা আয় সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাজারে অর্কিডের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে আগামী প্রজন্মকে স্বনির্ভরতার দিশা দেখাচ্ছেন তিনি।
কেশিয়াড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ঘরের সামনের এক চিলতে উঠোন এখন লক্ষাধিক টাকার গাছে ঠাঁসা। যেখানে থরে থরে সাজান রয়েছে দেশি ও বিদেশি প্রজাতির বিরল সব অর্কিড। লকডাউনের বন্দি জীবনে নিছক ভাললাগা থেকে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, পাঁচ বছরের মাথায় তা এক বিশাল সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি এলাকার বাসিন্দা তথা একটি বেসরকারি কলেজের পরিচালক দীপক দাসের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন নজর কাড়ছে সকলের।
২০২০ সালে করোনা আবহে যখন সাধারণ জনজীবন থমকে গিয়েছিল, ঠিক তখনই ঘরবন্দি অবসরে এক-দুটি গাছ দিয়ে বাগান করা শুরু করেন দীপকবাবু। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি প্রজাতির ৬০০-র বেশি গাছ রয়েছে। যার মধ্যে ফিলিপাইন-সহ বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির অর্কিড যেমন রয়েছে, তেমনই আছে অ্যান্থোরিয়াম ও নানা ধরনের ফোলিয়েজ। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এবং ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে নিরলস পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি এই বাগান গড়ে তুলেছেন। বছরের প্রায় তিন-চার মাস পুরো বাগান ফুলে ভরে থাকে, যা দেখতে ভিড় জমান প্রতিবেশী থেকে শুরু করে পরিচিতরা।
তবে দীপকবাবুর এই উদ্যোগ শুধুমাত্র নিজের শখ পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্কিডের আন্তর্জাতিক বাজার এবং রফতানির ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আগামী প্রজন্মের কাছে স্বনির্ভরতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। শখের বশে লাগানো এই গাছগুলি থেকে চারা তৈরি করে তিনি যেমন মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেন, তেমনই কেউ যদি পেশাগতভাবে এই চাষ শিখতে চান, তবে তাকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিতেও তিনি আগ্রহী। দীপকবাবুর মতে, গ্রামাঞ্চলেও যদি সঠিক পদ্ধতিতে অর্কিড চাষ করা যায়, তবে তা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক হতে পারে।
Paschim Medinipur,West Bengal