Last Updated:
ইরান যুদ্ধ আর স্ট্রেট অফ হরমুজ বন্ধ হওয়ার প্রভাব এখন ভারতের ব্যবসায়িক মানচিত্র স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল ২০২৬-এ সিঙ্গাপুর UAE-কে পিছনে ফেলে ভারতের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় এক্সপোর্ট ডেস্টিনেশন হওয়ার রেকর্ড করেছে।
ইরান যুদ্ধ আর পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রভাব এখন ভারতের ব্যবসার উপরও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হওয়ার পর ভারতের রফতানি রুটে বড় পরিবর্তন এসেছে। এরই ফলাফল হল, এপ্রিল ২০২৬-এ সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী অর্থাৎ UAE-কে পিছনে ফেলে ভারতের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্যের স্থান দখল করেছে। আমেরিকার পরে এখন সিঙ্গাপুর ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তন শুধু সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটা দেখায় যে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কট কীভাবে কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো সাপ্লাই চেইন আর ট্রেড ম্যাপ বদলে দিতে পারে।
এপ্রিল ২০২৬-এ ভারতের সিঙ্গাপুরে রফতানি ১৮০ শতাংশ বেড়ে ৩.২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যখন গত বছর এই সময় এটা ছিল ১.১৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমিরশাহিতে রফতানি ৩৬ শতাংশ কমে শুধু ২.১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যা গত বছর ছিল ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলার। অনেকদিন ধরে আমিরশাহী ভারতের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় এক্সপোর্ট মার্কেট ছিল, কিন্তু এখন তার জায়গা সিঙ্গাপুর নিয়েছে। ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সরাসরি হরমুজ সঙ্কটের সঙ্গে জড়িত। মার্চ ২০২৬ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা আসার পর আমিরশাহীর মাধ্যমে মালপত্র পাঠানো খরচসাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এরপর ভারতীয় রফতানিকারকরা বিকল্প রুট খুঁজতে শুরু করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো সম্পর্ক প্রায় এক হাজার বছর আগের। ১১ শতকে দক্ষিণ ভারতের প্রতাপী চোল রাজাদের (বিশেষ করে রাজেন্দ্র চোল প্রথম) সমুদ্র অভিযান চলাকালীন মালয় অঞ্চলের (যার মধ্যে সিঙ্গাপুরও ছিল) সঙ্গে ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সিঙ্গাপুরের আসল নাম ‘সিংহপুরা’ (সিংহদের শহর), সংস্কৃত ভাষা থেকেই এসেছে, যা এর গভীর ভারতীয় সংযোগকে দেখায়।
শুধু রফতানি নয়, আমদানির সংখ্যাতেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে ওমান থেকে ভারতের আমদানি তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে কাতার থেকে আমদানি ৪৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। সৌদি আরব থেকে আমদানিতে আবারও গতি দেখা গিয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো থেকে স্পষ্ট, ভারত এখন আর শুধু প্রচলিত উপসাগরীয় রুটের উপর নির্ভর করতে চায় না। কোম্পানিগুলো এমন রাস্তা আর দেশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যেখানে সাপ্লাই চেইন বেশি নিরাপদ আর স্থিতিশীল থাকতে পারে।
ভারতের জন্য এর মানে কী?
এই পরিবর্তনের একটা বড় ইতিবাচক দিক হল, ভারতের রফতানি বাজারে বৈচিত্র্য বাড়ছে। ASEAN দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা শক্তিশালী হলে ভারতীয় সংস্থাগুলি নতুন সুযোগ পেতে পারে। যদিও অন্যদিকে, নতুন সামুদ্রিক রুট আগের তুলনায় বেশি খরচের হতে পারে, যার ফলে এক্সপোর্ট খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী সঙ্কট দীর্ঘদিন চলে, তাহলে সিঙ্গাপুর ভারতের জন্য স্থায়ীভাবে বড় রফতানি হাব হয়ে উঠতে পারে। এই কারণেই এখন ভারতের নজর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর ASEAN অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর দিকে দ্রুত কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
Kolkata,West Bengal
