সুপ্রিম কোর্ট পথকুকুর সংক্রান্ত তার পূর্ববর্তী রায় বাতিলের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। পথকুকুরের ক্রমবর্ধমান উপদ্রব এবং এর সঙ্গে জড়িত জন নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে৷ নিজেদের ২৫ নভেম্বরের নির্দেশ সংশোধন করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে৷ আদালত, স্কুল, হাসপাতাল, রেলস্টেশন এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা থেকে সমস্ত পথকুকুর অপসারণের নির্দেশ বহাল রেখেছে।
এতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরিয়ে নেওয়া কুকুরগুলিকে একই স্থানে পুনরায় ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত বলেছে যে, মানব জীবন রক্ষা করা রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির দায়িত্ব। জীবনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কুকুরগুলিকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি বাতিলের দাবিতে কুকুরপ্রেমীদের করা একটি আবেদনও সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে।
#WATCH | Delhi: On Supreme Court refuses to modify directions to remove stray dogs from public places, Advocate Vivek Sharma says, “This is a commendable step and an excellent ruling by the judiciary. The judgment is divided into three parts. The first part pertains to the… pic.twitter.com/IHXelQxO8A
— ANI (@ANI) May 19, 2026
বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালত দেশ জুড়ে ক্রমবর্ধমান পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং রাজ্যগুলির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, ক্রমবর্ধমান পথকুকুরের সংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। আদালতের মতে, কোনও সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই বন্ধ্যাকরণ এবং টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়েছিল, যা পুরো ব্যবস্থার উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করেছে।
রাজ্য সরকারগুলির প্রতি কড়া মন্তব্য
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে যে, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় সংস্থাগুলি যদি সময়মতো দূরদর্শিতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিত, তাহলে আজ পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। আদালত আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জনসমাগমস্থলে জননিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় এবং এই বিষয়ে কোনও অবহেলা সহ্য করা যায় না। পথকুকুর সম্পর্কিত ক্রমবর্ধমান ঘটনা ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশনা রাজ্য ও পৌরসভাগুলোর ওপর প্রাতিষ্ঠানিক এলাকাগুলিকে পথকুকুরমুক্ত রাখতে এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়নের জন্য চাপ বাড়িয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ (এবিসি) নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সতর্ক করেছে যে, নির্দেশিকাগুলি অনুসরণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, পথকুকুরের সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর, পদ্ধতিগত এবং বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা অপরিহার্য।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি এবিসি কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যেখানে প্রশিক্ষিত পশুচিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে। আদালত স্বীকার করেছে যে, বর্তমান ব্যবস্থা অনেক জায়গায় অত্যন্ত দুর্বল এবং তা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
শুনানির সময়, আদালত দেশ জুড়ে কুকুরের কামড়ের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে যে তারা বিমানবন্দর, আবাসিক এলাকা এবং শহরাঞ্চলে কুকুরের কামড়ের ঘন ঘন অভিযোগ পাচ্ছে। আদালত বিশেষভাবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (আইজিআই) কথা উল্লেখ করে বলেছে যে দেশের ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরে ঘন ঘন কুকুরের কামড়ের ঘটনা গুরুতর প্রশাসনিক দক্ষতাহীণতারই প্রতিফলন। আদালত গুজরাতের সুরাতে এক জার্মান পর্যটককে পথকুকুরের কামড়ে আহত করার ঘটনাটিও উল্লেখ করেছে। আদালত বলেছে যে, এই ধরনের ঘটনা শুধু নাগরিকদের নিরাপত্তাই বিপন্ন করে না, বরং নগর প্রশাসন ও স্থানীয় সংস্থাগুলির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এগুলি প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করে।