কলকাতা: এবিপি আনন্দে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্য (Samik Bhattacharya) বলেছিলেন, তিনি থিয়েটার দেখতে ভালবাসেন। কাজের চাপে দীর্ঘদিন থিয়েটার দেখতে যাওয়া হয়নি তাঁর। তবে তিনি খুব তাড়াতাড়িই থিয়েটার দেখতে যাবেন। এর দিনকয়েক পরেই, থিয়েটার দেখতে গিয়েছিলেন নন্দনে। তৃণমূল সাংসদের অভিনয় করা থিয়েটার দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। আর ফের একবার, রাজনীতি নিয়ে, রাজনীতি আর শিল্পের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন শমীক ভট্টাচার্য। কী বললেন তিনি?
থিয়েটারে উদার শমীক, কী বললেন চন্দন সেন?
সম্প্রতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আমি একজন থিয়েটারের দর্শক। রং দেখে কোনোদিন থিয়েটার দেখতে যাইনি। যাঁরা অভিনয় করেন… যেমন আমার দলের সবচেয়ে বড় সমালোচক কৌশিক সেন, তিনিই তাঁর প্রথম থিয়েটারে আমায় আমন্ত্রণ জানান। আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন বামপন্থী প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন সেন। চন্দনদার ২১ বছরে লেখা নাটক বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল। ওঁরা আমার দলের কেউ নয়। আমি রং দেখে কোনও দিন নাটক দেখতে যাইনি।’ এই বিষয় নিয়ে প্রবীণ নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন সেন বলেন, ‘আমি শমীক ভট্টাচার্যকে একজন থিয়েটারপ্রেমী হিসাবে চিনি। শমীক আমার, কৌশিক সেনের কথা বলেছেন। এই বলার মধ্যে কোনও দোষ হয়েছে বলে আমি মনে করি না। শমীক দীর্ঘদিন থেকে আমার নাটক দেখছে। দু-জন দু’জনের জায়গায় রয়েছি। আমি মনে করি, আমাদের রাজ্যে যে সরকার এসেছে, সেই দলের প্রধান হয়ে শমীক যদি থিয়েটারের মঞ্চের দিকে একটু মন দেন, যদি নাটককে এই দলবৃত্তের বাইরে আনতে পারেন… আগের সরকার পারেনি। আমি আমার জায়গায় রয়েছি, শমীক শমীকের জায়গায় রয়েছে। সে ভালমতো তাঁর দল চালাক, সরকার চালাক। আমি বামপন্থাকে আঁকড়েই বেঁচে থাকব’, বিজেপি রাজ্য সভাপতির মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া চন্দন সেনের।
থিয়েটার নিয়ে কী বলেছিলেন শমীক?
এর আগে, এবিপি লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘আমি একজন থিয়েটারপ্রেমী। যাঁরা এখানে থিয়েটার করেন, অধিকাংশরাই তো মানসিকভাবে বিজেপি-বিরোধী। প্রায় ১ বছর হতে চলল শেষ থিয়েটার দেখেছি.. ভুলেই গিয়েছি। এই ১৬ বা ১৭ তারিখের মধ্যে একদিন থিয়েটার দেখতে যাব। যাঁদের থিয়েটার দেখতে যাব, তাঁরা কেউ বিজেপি নন। প্রত্যেকের কাজের পরিসর থাকবে। যাঁরা ছোট ছোট পরিচালক, যাঁরা ২০, ২৫, ৩০ লক্ষ টাকা জোগাড় করে একটা সিনেমা তৈরি করার স্বপ্ন থাকে, তাঁরা করবেন। যেভাবে দখলদারি চলেছিল, সেটার থেকে মুক্তি তাঁদের দিতে হবে। তাঁদের সেই পরিসরটা দিতে হবে।’