ফলতার এহেন ফলাফলের পরে স্বাভাবিক ভাবেই মুখে চওড়া হাসি দেখা গেল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের মুখে৷ তিনি বললেন, ‘‘ফলতার প্রার্থী শম্ভু কুর্মি এবং তার সঙ্গে কর্মী, ওখানকার সাধারণ মানুষ ভোটারদেরকে আমি একেবারে নতমস্তকে লাল সেলাম জানাব৷ অভিনন্দন জানাব৷’’ তৃণমূলের প্রতি তাঁর কটাক্ষ, গরমে তৃণমূল যেমন বরফের মতো গলে যাচ্ছে, সেখানে বামেরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, এই ফল তারই স্বীকৃতি৷
মহম্মদ সেলিমের আশা, ‘‘মানুষ তার মত দিতে পারত না৷ মানুষ যদি তার মত দিতে পারে, গণতন্ত্রকে যদি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বামপন্থারও পুনরুদ্ধার হবে৷ ফলতার ফল দিয়ে এইটুকু বোঝা গেছে৷’’
এরপরেই ভোট এবং জনসমর্থন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিশ্লেষন করতে দেখা যায় মহম্মদ সেলিমকে৷ তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘বলছিলে সিপিএম শেষ, লাল ঝান্ডা নেই, আমাদের ২০-২৫ পার্সেন্ট ভোট আছে৷’’ সেলিমের মতে, সেই জনসমর্থন নানা কারণে ভোটে প্রতিফলিত হচ্ছে না৷ আন্দোলন সংগ্রামকে ভোটবাক্সে নিয়ে আসা, মানুষের কাছাকাছি যাওয়া, নিজেদের সংগঠন মজবুত করা, এ সব কিছু নিয়ে তাঁদেরও কাজ করতে হবে বলে মনে করেন সেলিম৷
চূড়ান্ত ফলাফল (ইভিএম + পোস্টাল):
বিজেপি (দেবাংশু পান্ডা): ১,৪৯,৬৬৬ ভোট – ১,৪৯,৪২১ ইভিএম + ২৪৫ পোস্টাল
সিপিআইএম: ৪০,৬৪৫ ভোট – ৪০,৬২৫ ইভিএম + ২০ পোস্টাল
কংগ্রেস: ১০,০৮৪ ভোট – ১০,০৭৯ ইভিএম + ৫ পোস্টাল
তৃণমূল কংগ্রেস (জাহাঙ্গীর খান ওরফে ‘পুষ্পা’): ৭,৭৮৩ ভোট – ৬,২৫৭ ইভিএম + ১,৫২৬ পোস্টাল
ব্যবধান: ১,০৮,৭৯৬ ভোটে জয়ী দেবাংশু পান্ডা।
জামানতের হিসেব: মোট বৈধ ভোট ২,১০,১৮৭। এর ১/৬ অংশ অর্থাৎ ৩৫,০৩১ ভোট। তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৭,৭৮৩ ভোট। ফলে নিয়ম অনুযায়ী জামানত জব্দ হল ‘পুষ্পা’র।