Last Updated:
Prosenjit Chatterjee: ২৫ মে, ২০২৬- বাংলা সিনেমার জন্যও গর্বের মুহূর্ত। টলিউডের কিংবদন্তী অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী গ্রহণ করেন।
কলকাতা: টলিপাড়ার জন্য ভীষণ গর্বের দিন৷ সোমবার, মে মাসের ২৫ তারিখ পদ্মশ্রী পুরস্কার পেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷ রাইসিনা হিলসে টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’র হাতে উঠল পদ্ম সম্মান। জানুয়ারি মাসে সাধারণতন্ত্র দিবসেই পদ্ম সম্মানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। তখনই জানা যায়, বাংলা সিনেমায় বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানে পাচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ২৫ মে, নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মনোনীত ব্যক্তিত্বদের হাতে এই সম্মান তুলে দিলেন।
ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রসেনজিৎকে হালকা বেজ রঙের পাঞ্জাবিতে দেখা গেছে৷ অভিনেতা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে পদক ও সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন, যা শুধু তাঁর পরিবার ও ভক্তদের জন্যই নয়, বাংলা সিনেমার জন্যও বিরাট গর্বের মুহূর্ত। এ বছর বিনোদন জগতের যারা স্বীকৃতি পেয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন টলিউডের বুম্বা দা অর্থাৎ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর এই প্রাপ্তিতে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত গোটা বাংলার অনুরাগীরা। এছাড়াও হিন্দি সিনেমার ‘হিম্যান’ খ্যাত প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে মরণোত্তর ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা হল৷ মালয়ালাম সিনেমার মহাতারকা মামুট্টি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন৷ ভারতীয় সঙ্গীতে অসাধারাণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান পেলেন প্রখ্যাত গায়িকা অলকা ইয়াগনিক। ছাড়াও ‘পদ্মশ্রী’ পেয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আর মাধবন। যিনি সকলের কাছে ‘ম্যাডি’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রয়াত অভিনেতা সতীশ শাহকেও মরণোত্তর ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করা হল। এবছর ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন আরও এক বর্ষীয়ান অভিনেতা ও পরিচালক অরবিন্দ বৈদ্য।


ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান হল পদ্ম পুরস্কার প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষণা করা হয়। এ বছরের তালিকায় ৫ জন পদ্মবিভূষণ, ১৩ জন পদ্মভূষণ এবং ১১৩ জন পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন। বাংলা থেকে এই সেরার মুকুট উঠল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়ের মাথায়৷ এছাড়াও হরিমাধব মুখোপাধ্য়ায়, জ্যোতিষ দেবনাথ, অশোককুমার হালদার, শ্রীকুমার বোস, মহেন্দ্রনাথ রায়, রবিলাল টুডু, সরোজ মণ্ডলেরও নাম রয়েছে। বাংলার জন্য এ যেন এক বিরাট আনন্দের ও গর্বের দিন ।
সেই আশির দশক থেকে আজ পর্যন্ত— টলিউডে স্বমহিমায় অভিনয় করে চলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক ছবি হোক বা বিকল্প ধারা বাংলা ছবিতে তিনি যেন এক মাইল ফলক। ছোট্ট জিজ্ঞাসাতে শিশু শিল্পী হিসাবে অভিনয় জীবন শুরু। নায়ক হিসাবে প্রথম অভিনয় ‘দুটি পাতা’। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দোসর’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ‘চোখের বালি’, ‘উনিশে এপ্রিল’, ‘শেষ পাতা’ কিংবা ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘জাতিস্মর’-‘অটোগ্রাফ’-এর মতো বিকল্প ধারার ছবিতে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি। তারই যোগ্য স্বীকৃতি দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘শঙ্খচিল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার পান তিনি।
এই বছরের শুরুতে তাঁর পদ্মশ্রী সম্মানের নাম ঘোষণার পর প্রসেনজিৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, “এই সম্মান শুধু তাঁর একার নয়, বরং তাঁর যাত্রাপথে যাঁদের ভূমিকা রয়েছে, এই সম্মান তাঁদের সকলের। তিনি এই স্বীকৃতিটি তাঁর প্রয়াত মাকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁর মায়ের ত্যাগ ও কর্মজীবনে পরিবারের ভূমিকার কথাও স্বীকার করেছিলেন। অভিনেতা এর আগে বলেছিলেন যে পদ্মশ্রী পাওয়াটা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনই নয়।”
আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সেইসব শিল্পীদের তালিকায় যুক্ত হলেন, যাঁদের কাজ ভারতীয় চলচ্চিত্রে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তাঁর অনুরাগীদের কাছে এই সম্মাননা কেবল তাঁর দীর্ঘায়ুকেই স্বীকৃতি দেয় না, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বাংলা চলচ্চিত্রকে দৃশ্যমান, প্রাসঙ্গিক এবং দর্শকদের সঙ্গে আবেগগতভাবে সংযুক্ত রাখার তাঁর অবিচল ক্ষমতাকেও তুলে ধরে।
Kolkata,West Bengal
