সোমনাথ দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: তৃণমূল নেতার নামে ঢুকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।এমনই তথ্য হাতে পেয়ে বিজেপি তুলছে তৃণমূলের দুর্নীতির অভিযোগ।কীভাবে তৃণমূল নেতার নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? ঘটনায় শোরগোল। ঘটনার কথা স্বীকার করেছে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতা। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা এক নম্বর ব্লকের মনোহরপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের মনোহরপুর এলাকায়।
এলাকার বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ এলাকার তৃণমূল নেতা পেশায় একজন ঠিকা কর্মী উত্তম কুমার সাউ এর নাম লক্ষীর ভাণ্ডারের তালিকায়। তাহলে উত্তম কী করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছে একজন ছেলে হয়ে, ঘটনায় পড়ে গিয়েছে শোরগোল। তবে এই ঘটনায় বিজেপি তরফ থেকে দাবি তোলা হচ্ছে, অবিলম্বে টাকা ফেরত দিক ওই তৃণমূল নেতা এমনকি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হোক তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি তিনিও বিষয়টি জানতেন না, কয়েকদিন আগেই তার নজরে এসেছে, তার দাবি উপভোক্তার নামের জায়গায় তার নাম থাকলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি তার স্ত্রী মুনমুন সামন্ত (সাউ) এর একাউন্ট নম্বর দেওয়া রয়েছে। তবে তিনি এই সমস্যার সমাধানের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত আবেদন জানাবেন। ঘটনার কথা স্বীকার করে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিংহ দোলই বলেন, এই বিষয়টি তাদের জানা ছিল না, বিজেপির কাছে অভিযোগ পেয়েই তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে, এটা কোন টেকনিক্যালি সমস্যা বলেও তিনি জানিয়েছেন।
প্রশ্ন: আপনার নামে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো মহিলাদের নামে হয়, বিজেপির অভিযোগ, বলছে আপনি প্রভাব খাটিয়ে আপনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। কী বলবেন ?
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা : দেখুন কখনও আমি ওই লিস্ট খতিয়ে দেখিনি। কিংবা আমার নামটা ওখানে এসেছে, এটাও আমার জানা নেই। আমার কেবলমাত্র নামটা আছে, অ্যাকাউন্ট নাম্বার, ফোন নাম্বার অন্য এক জনের। আর ওটাকে নিয়েই ওরা মাতামাতি করছে। যদি আমার কোনও ভুল থেকে থাকে, সেটা তাহলে অফিশিয়ালভাবে, কিংবা আইনিভাবে যেটা করার করতে পারেন, আমার কোনও অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন: এখন তো প্রকাশ্যে এসেছে, আপনি এখন কী করবেন ?
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা : আমি অফিশিয়ালভাবে একটা অ্যাপলিকেশন জমা দেব। এই নামটা যাতে ওখান থেকে কেটে যায়, সেটার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলব।
প্রশ্ন: মানে আপনি আপনার স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলেন ?
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা : হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওনার জন্য আবেদন করেছিলাম। …উনি আমার নামটা ওখানে আছে, কিন্তু ওনার হচ্ছে যে, অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং ফোন নাম্বার, বেনিফিশারি নামের জায়গায় দেখা যাচ্ছে যে, আমার নাম বসে আছে।এটা কীভাবে হয়েছে, সেটাও কিন্তু আমার জানা নেই। অফিশিয়াল কিছু একটা মিসটেক আছে। আর সেটাকে নিয়েই ওরা মাতামাতি করছে। উল্টোবাল্টা বলছে।
প্রশ্ন: আপনি অ্যাপলিকেশন করবেন ?
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা : হ্যাঁ, আমি সংশোধনের জন্য অ্যাপলিকেশন করব।