১২ পাতার এই ফর্মে শুধুমাত্র আবেদনকারী নয়, আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কেও বিশদে তথ্য চাওয়া হয়েছে৷ পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, উপার্জনের মাধ্যম, কর্মসংস্থানের ধরন, পরিবারের কেউ রাজ্য অথবা কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি করেন কি না, পেনশন পান কি না, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেউ কোনও পদে আছেন কি না, স্বাস্থ্য বিমা, পরিবারের কেউ আয়কর দেন কি না, এরকম একাধিক তথ্য খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে৷
পরিবারের কতজন সদস্য, বাড়ির ধরন, তাঁদের মোট জমির পরিমাণ, বাড়িতে কোনও যানবাহন আছে কি না, পরিবারের সদস্যদের ভোটার কার্ডের নম্বর, প্যান কার্ড থাকলে তার নম্বর দিতে হবে৷
শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ সিএএ-তে আবেদন করেছে কি না, এসআইআর-এ কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, বাদ পড়লেও ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে কি না, এই তথ্যগুলিও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে৷
বুধবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ফর্মে বিশদে তথ্য চাওয়া হয়েছে৷ সরকার মা, বোনেদের মাসে ৩ হাজার টাকাও দিতে চায় এবং পরিবারের তথ্যও সংগ্রহ করতে চায়৷ কারণ সরকার রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা মানুষকে দিতে চায়৷’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশদে তথ্য দিতে হলেও ফর্ম ফিল আপ করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হবে৷ শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ফর্মে অনেকগুলি তথ্য চাওয়া হয়েছে, ফর্ম পূরণে আমরা সহযোগিতা করব৷ বিডিও অফিস থেকে বিধায়কদের এই কাজে যুক্ত করা হবে৷ বিধায়কদের এটা একটি বড় কাজ৷ বিডিওদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কর্মসূচি হবে৷ ১৫ থেকে ১৭ জনকল্যাণ শিবিরেও ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করা হবে৷’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার অভিযোগ করেছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে শুরু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ এমন উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা গিয়েছে, যাঁরা আদৌ সরকারি এই অনুদান পাওয়ার যোগ্য নন৷ তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে রাজ্য সরকার৷ ফর্ম থেকে সংগৃহীত পরিবারের সব সদস্যদের বিশদ তথ্য থেকেই তাই আবেদনকারী মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করে নেবে রাজ্য সরকার৷