Last Updated:
Assembly Sign Case: এদিন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অন্যের সই করা অন্যায়। আমি অন্যায়কে সমর্থন করি না। তাতে আমি বিরোধী দলনেতা থাকি বা না থাকি। এখন অতি সক্রিয়তা দেখানো হচ্ছে। ৩০ জন হলেই বিরোধী দলনেতা পাওয়া যায়।’’ পরবর্তী ক্ষেত্রে বিধায়কদের নিয়ে শুক্রবার একটি বৈঠকও করেন শোভনদেব৷
কলকাতা: নজিরবিহীন ঘটনা রাজ্য বিধানসভায়। বিরোধী দলনেতার প্রস্তাব মনোনয়নে সই-য়ের গোলমাল। তার জেরেই অভিযোগ দায়ের রাজ্য বিধানসভার সচিবালয়ের। প্রসঙ্গত, ৬মে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা চেয়ে চিঠি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা সেই চিঠি জমা পড়ে রাজ্য বিধানসভার সচিবালয়ে। যদিও সেই চিঠি পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় বিধানসভার সচিবালয়। জানানো হয়, বিধায়কদলের বৈঠকে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি দিতে হবে।
এরপরে, ১৯মে পুনরায় কালীঘাটে বিধায়কদলের এক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের চিঠি বিধায়কদের স্বাক্ষর সহ পাঠানো হয় বিধানসভার সচিবালয়ে। এই চিঠি পরীক্ষা করতে গিয়েই বিধানসভার নজরে আসে একাধিক সইয়ে গোলমাল আছে। আবার জানা যায়, কোনও কোনও তৃণমূল বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। তাঁদেরও সই রয়েছে চিঠিতে। এটা কীভাবে সম্ভব হল? তা নিয়েই ওঠে প্রশ্ন। গোটা ঘটনায় সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছে সিআইডির দল৷ গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষের বাড়িতেও৷ কথা বলা শুরু করেছে পুলিশ। বৈঠকে সত্যিই তাঁরা ছিলেন কি না সেটা দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে টাওয়ার লোকেশনের সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম–এর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য যে রেজুলেশন করা হয়েছিল, তাতে বাহারুল ইসলাম এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম দাবি করেন, ৬মে তিনি সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন এবং বাইরে যাননি। তাঁর প্রশ্ন, “আমি যদি বাড়িতেই থাকি, তাহলে আমার সই কীভাবে হল?” পাশাপাশি, তিনি দলের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, বিধানসভায় সই জালের অভিযোগ ঘিরে গত বৃহস্পতিবারই চৌরঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি-র একটি দল৷ প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে তাঁরা বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করে৷ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হস্তরেখাবিদকেও৷ নয়নার প্যান কার্ডের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় বিধানসভায় জমা দেওয়া চিঠির স্বাক্ষর৷
