মুল্লানপুর: এবারের আইপিএলটা যেন বৈভব সূর্যবংশীর জন্যই মানুষে মনে রাখবে। এখনও ফাইনাল হয়নি। কে চ্যাম্পিয়ন হবে, তাও নিশ্চিত নয়। আজ রাজস্থান বনাম গুজরাত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। এই দুই দলের মধ্য়ে বিজয়ী দল ফাইনালে আরসিবির বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। তবে ইতিমধ্য়েই যদি একটি প্রশ্ন করা হয় যে এই আইপিএল কার জন্য মনে থাকবে, নিঃসন্দেহে উঠে আসবে ১৫ বছরের বিস্ময় বালকের কথা। বৈভব সূর্যবংশী। যে ম্য়াচের পর ম্য়াচ একার হাতেই ধ্বংস করেছে প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের। রাজস্থানের এবারের আইপিএলে সাফল্যের নব্বই শতাংশ অবদান বৈভবেরই। কিছুদিন আগেই গেলকে টেক্কা দিয়েছে সে এক আইপিএল মরশুমে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর নিরিখে। বিশ্ব ক্রিকেটে আরেক ছক্কা মারতে ওস্তাদ আন্দ্রে রাসেল মুগ্ধ বৈভবের ব্যাটিং দেখে। কেকেআরের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ও বর্তমান পাওয়ার কোচ নিজের সোশ্য়াল পোস্টে বৈভবকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
১৫ বছরের বৈভব ২৯ বলে ঝোড়ো ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে। সেই ম্য়াচে পাঁচটি বাউন্ডারি ও ১২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল সে। চলতি মরশুমে তার নামের পাশে রয়েছে ৬৮০ রান ও ৬৫টি ছক্কা। ২০১৯ সালে আইপিএল মরশুমে ৫২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন রাসেল। যা এই মুহূর্তে আইপিএলের ইতিহাসে তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে ২০১২ সালে ক্রিস গেলের হাঁকানো ৫৯টি ছক্কা। রাসেল বলছেন, ‘অনেকেই তোমার বয়স নিয়ে খোঁটা দেবে। অনেকেই প্রশ্ন করবে। কিন্তু নিন্দুকদের কথায় কান দিও না। আমি তোমার ব্যাটিংয়ের ভক্ত হয়ে গিয়েছি। তুমি আরও এগিয়ে চলো। যেভাবে বল দেখো, আর চালিয়ে খেলো, সেভাবেই ব্যাটিং করে যেও।’
আইপিএলের মঞ্চে বৈভব সূর্যবংশী এখনও পর্যন্ত এবার অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছে। ৬৮০ রান করা বৈভব যদি আগামী দু ম্য়াচে আরও দুটো বড় ইনিংস খেলতে পারে, তাহলে কিন্তু বিরাট কোহলিকেও টেক্কা দিতে পার। ২০১৬ মরশুমে ৯৭৩ রান করেছিলেন বিরাট সেই মরশুমে। যা এখনও পর্যন্ত আইপিএলের এক মরশুমে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড এখনও অক্ষত। সেই রেকর্ড কি নিজের ঝুলিতে নিতে পারবে বৈভব?