কলকাতা: সোনা পাপ্পু, জয় কামদার, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের জেল হেফাজত চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। তোলাবাজি, আর্থিক প্রতারণা মামলায় জেলে গিয়েই জেরার আবেদন জানানো হয়েছে।
মূলত, ৭ কোটির বেশি মূল্যের সম্পত্তি কেনা হয়েছিল মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। প্রোমোটার, পুলিশের মদতে এভাবেই ভয় দেখিয়ে জমি দখল করতেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপপু। আদালতে এমনই দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রোমোটার, পুলিশ এবং পারসিকিউটর অর্থাৎ নির্যাতনকারী। এই PPP মডেলে চলত জমি দখলদারির সিন্ডিকেট। সোনা পাপপুকে আদালতে পেশ করে, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কাঁকুলিয়ায় বোমা-গুলিকাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপপু। রাজ্য়ে পালাবদলের পর সোমবার তিনি নিজেই যান ED দফতরে।
৯ ঘণ্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। মঙ্গলবার বিধাননগর হাসপাতালে ঢোকার সময় সোনা পাপপুকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। কোটি কোটি টাকা প্রতারণার মামলায় এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ব্যবসায়ী জয় এস কামদার,ও কলকাতা পুলিশের DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে। ব্যবসায়ী, পুলিশ কর্তা ও সোনা পাপ্পুর ইযোগসাজশে জমি দখলদারির সিন্ডিকেট চলত বলে আগে আদালতে দাবি করে ইডি।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, প্রবাসী বা প্রবীণ নাগরিকদের সফট টার্গেট করা হত। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়ো মামলা করে থানায় ডেকে হয়রানি করা হত।নেপথ্যে থেকে তাতে মদত দিতেন কলকাতা পুলিশের DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস।আর এই প্রোমোটার, পুলিশ কর্তার হয়ে ফোরফ্রন্টে থেকে কাজ করত সোনা পাপ্পু। বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুই সামনে থেকে হুমকি দিয়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করত। তারপর নামমাত্র টাকায় হাতিয়ে নেওয়া হত জমি।
ED-র দাবি, এসপি কনস্ট্রাকশন নামের কোম্পানিতে আড়াই বছরে ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা নগদ জমা পড়েছে। লেনদেন হয়েছে মোট ১৫ কোটি টাকার। সোনা পাপ্পুর স্ত্রী অ্যাকাউন্টে মোট ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। ED-র দাবি, বহু সম্পত্তি চিহ্নিত করেছে তারা। তার মধ্যে একটি ৫ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার সম্পত্তি রয়েছে, যেটি কেনা হয়েছে মাত্র ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা দিয়ে। অন্য একটি সম্পত্তির বাজারমূল্য ৭ কোটি ৭ লক্ষ টাকা। যা কেনা হয়েছিল ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। আদালতে এই দুটি সম্পত্তির তথ্য দিয়ে ED-র আইনজীবী বলেন, বোঝাই যাচ্ছে কীভাবে আতঙ্ক তৈরি করে জমি হাতানো হয়েছে।
ED-র দাবি, সোনা পাপুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রিভলভার উদ্ধার হয়েছিল, যার কোনও লাইসেন্স নেই। আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের সংস্থা থেকে কেনা হয়েছিল সোনা পাপপুর স্ত্রীর নামে। তার ঠিক ১৫ দিন পরই কাঁকুলিয়ার ঘটনা ঘটে বলে আদালতে জানিয়েছে ED। সোনা পাপপুর আইনজীবী সওয়াল করেন, আগ্নেয়াস্ত্র মানেই বেআইনি নয়। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ম মেনেই কেনা হয়েছে। কাঁকুলিয়ার ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। পরে FIR-এ তাঁর নাম যোগ করা হয়েছে।