কলকাতা: সোনারপুরের মৃত তৃণমূল কর্মী সঞজু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথেই শনিবার রোষের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার তাঁর বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তাঁর আত্মীয় ইপ্সিতা কর্মকার। মৃত্যুকালীন জবানবন্দীর খুব আইনত গুরুত্ব আছে। মৃত্যুর আগে চিকিৎসককে সঞ্জু কর্মকার জানিয়েছিলেন কেউ তাঁকে আঘাত করেনি। তাহলে ভোট পরবর্তী হিংসায় বিজেপির হাতে সঞ্জু কর্মকারের মৃত্যু হল কীকরে ? এর পিছন আসল কারণটা কী ? সঞ্জু কর্মকারের আত্মীয় ইপ্সিতা কর্মকার, যিনি প্রতিবেশীও, পাশাপাশি ঘটনার অন্যতম সাক্ষীও। এদিন তিনি এবিপি আনন্দ-র ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’, বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ খুলেছেন।
প্রশ্ন : এই মৃত্যু নিয়ে আপনাদের কী বক্তব্য ?
মৃত সঞ্জু কর্মকারের আত্মীয় ইপ্সিতা কর্মকার : সঞ্জু কিন্তু সুস্থ ছিল। ২২ তারিখের ঘটনা। সকাল বেলা ৮ টার সময়, ও চায়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট নিয়ে এসেছে। আসার পর বাড়িতে এসেছে। সবাই দেখেছে বাড়ির লোক বাড়িতে ঢুকেছে। দিব্যি সুস্থ ছিল। কোনওরকম অসুস্থ না। তারপর সকালবেলা সাড়ে ১১ টার সময় আমার কাকি শাশুড়ি মানে সঞ্জুর মা, যখন আমাকে ডাকতে আসলেন, তখন গিয়ে দেখছি, সঞ্জুর মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বের হচ্ছে। মানে সঞ্জুকে দেখে মনে হচ্ছে, কিছুই নেই ওর শরীরে। পুরো একটা নিথর দেহ, চাদরে মুড়ে বাড়ি থেকে বের করছে। সঞ্জুর বোন ছিল, বোনের বর ছিল, আরেকজন ড্রাইভার ছিলেন। এরপর আমি জিজ্ঞেস করি কাকিমা কী হয়েছে সঞ্জুর ? তখন বলছে যে, জানি না , আমাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে বসে পড়ল। আমি তো সকালবেলা পড়ে গিয়েছি। আমি বললাম তুমি পড়ে গেছ তো সঞ্জু ? (তখন জানায়) বলল কথা বলতে বলতে বমি করছে, মাথা যন্ত্রণা, তারপরেই বসে পড়ল। বসে পড়েই অজ্ঞান। তাহলে মুখ থেকে গ্যাঁজলা বের হচ্ছে কেন, ওর তো মনে হচ্ছে স্ট্রোক হয়েছে। বললাম ওকি কিছু খেয়ে ফেলেছে ? ও এরকম করছে কেন ? কিন্তু ওর মায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া ছিল না।ওর মা হাসতে হাসতে বলে, ওরা সব দেখে নেবে । আমি ডক্টরকে নিয়ে এসেছি। ও ট্রিটমেন্ট করে গিয়েছে। এখন যা করার ওর বোন শিশুমঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছে, ওই সব দেখে নেবে।
প্রশ্ন: যে কোনও মৃত্যুই খুব দুভার্গ্যজনক, সঞ্জু কর্মকারের এই মৃত্যুর সঙ্গে কোথাও ভোট পরবর্তী হিংসার সংযোগ ছিল কি ? আর অভিষেক যে কারণে সোনাপুরে ছুটে গেলেন যে তাঁদের এক কর্মীকে বিজেপি খুন করেছে এই অভিযোগ নিয়ে, বারবার বলছিলেন, আর আপনি যে ঘটনাবলিগুলি পরপর বললেন সেটা তো মিলছে না ?
মৃত সঞ্জু কর্মকারের আত্মীয় ইপ্সিতা কর্মকার : সঞ্জু একজন পাড়ার অ্যান্টি সোশ্যাল ছিল।