ধনী হওয়ার সবচেয়ে বড় রহস্য কোনও বিশেষ বিনিয়োগ প্রকল্পে নয়, বরং সময়ের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। আপনি আপনার বিনিয়োগকে যত বেশি সময় দেবেন, আপনার অর্থ তত দ্রুত বাড়বে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ শুরু করতে যত দেরি করবেন, লক্ষ্য পূরণ করতে প্রতি মাসে তত বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।
সহজভাবে বললে, সময় যত বাড়বে, চক্রবৃদ্ধি সুদ (Compounding) আপনার হয়ে তত বেশি কাজ করবে।
ধরা যাক, আপনি বছরে গড়ে ১২% রিটার্ন পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ১ কোটি টাকার তহবিল গড়ার জন্য বিনিয়োগের সময়সীমা অনুযায়ী প্রতি মাসে আলাদা পরিমাণ SIP করতে হবে।
৫ বছরে ১ কোটি টাকা গড়তে প্রতি মাসে প্রায় ₹১,২১,২৩২ বিনিয়োগ করতে হবে। ১০ বছরে ১ কোটি টাকা গড়তে প্রতি মাসে প্রয়োজন হবে প্রায় ₹৪৩,০৪১। ২০ বছরে ১ কোটি টাকা গড়তে প্রতি মাসে মাত্র ₹১০,০০৯ SIP করলেই চলবে।
অর্থাৎ, সময় যত বাড়ছে, মাসিক বিনিয়োগের চাপ তত কমছে।
স্টকটিক ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় মাহেশ্বরী-র মতে, এই হিসেব বিনিয়োগের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মকে প্রমাণ করে।
বাজারে সঠিক সময়ে প্রবেশ করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, আপনি কতদিন ধরে বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে কম্পাউন্ডিং তার প্রকৃত শক্তি দেখানোর সুযোগ পায়।
যদি কোনও বিনিয়োগকারী ২০ বছরের বদলে ২৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করেন, তাহলে ১ কোটি টাকার ফান্ড গড়তে প্রতি মাসে মাত্র ₹৫,২৭০ SIP করলেই যথেষ্ট হতে পারে।
অর্থাৎ, ২০ বছরের তুলনায় মাসিক বিনিয়োগ প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।
আনন্দ রাঠি ওয়েলথ লিমিটেড-এর ডিরেক্টর প্রোতিমা ধাওয়ান-এর মতে, এর কারণ হল কম্পাউন্ডিংকে কাজ করার জন্য আরও বেশি সময় দেওয়া হয়। ফলে ফান্ড বৃদ্ধির বড় অংশটাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকেই হয়ে যায়।
একটি সহজ উদাহরণ ধরা যাক—
৫ বছরের বিনিয়োগ মোট বিনিয়োগ: ₹৭২.৭৪ লক্ষ
সম্ভাব্য রিটার্ন: ₹২৭.২৬ লক্ষ
মোট তহবিল: ₹১ কোটি
২৫ বছরের বিনিয়োগ মোট বিনিয়োগ: ₹১৫.৮১ লক্ষ
সম্ভাব্য রিটার্ন: ₹৮৪.১৯ লক্ষ মোট তহবিল: ₹১ কোটি
অর্থাৎ, ২৫ বছরের ক্ষেত্রে নিজের পকেট থেকে ১৬ লক্ষ টাকারও কম বিনিয়োগ করে ১ কোটির বেশি তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।
সময়ের সঙ্গে চাকরি বা ব্যবসায় আয় বাড়তে থাকে। সেই কারণে প্রতি বছর SIP-এর পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে দেওয়ার কৌশলকে বলা হয় Step-up SIP।
ধরে নিন যদি ৫ বছরে ১ কোটি টাকার লক্ষ্য থাকে, তাহলে সাধারণ SIP-এ প্রতি মাসে ₹১,২১,২৩২ বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু প্রতি বছর বিনিয়োগের পরিমাণ ১০% করে বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে প্রথম বছর মাত্র ₹১,০৩,২০০ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
একইভাবে ১০ বছরের লক্ষ্যে ₹৪৩,০৪১-এর পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে মাত্র ₹৩০,৬০০ মাসিক SIP দিয়েও শুরু করা সম্ভব।
কার্মিকা ওয়েলথ মেন্টরস-এর ডিরেক্টর কিরণ গান্ধির মতে, বেশি রিটার্নের আশায় বারবার স্কিম পরিবর্তন করার চেয়ে Step-up SIP অনেক বেশি বাস্তবসম্মত কৌশল।
কারণ বাজার ভবিষ্যতে কত রিটার্ন দেবে তা কারও নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু নিজের বিনিয়োগের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ানো সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীর হাতে থাকে।
প্রোতিমা ধাওয়ানও মনে করেন, অনেক বিনিয়োগকারী সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে ঘন ঘন ফান্ড পরিবর্তন করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। এর পরিবর্তে Step-up SIP-এর মাধ্যমে আয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোই বেশি কার্যকর।
১ কোটি টাকার তহবিল গড়ার জন্য সবসময় উচ্চ রিটার্নের পিছনে ছুটতে হবে এমন নয়। বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিনিয়োগ শুরু করা এবং নিয়মিতভাবে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের রিটার্ন আপনার নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, সময়মতো শুরু করা এবং Step-up SIP-এর মতো কৌশল ব্যবহার করা সম্পূর্ণ আপনার হাতেই রয়েছে। দীর্ঘ সময় এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বিনিয়োগই বড় সম্পদ গঠনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ।