Last Updated:
খাতায় কলমে এখন তৃণমূলের হাতে ৭৮ জন বিধায়ক। কিন্তু মঙ্গলবার সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়াই চ্যানেলের ধর্নায় দেখে মিলল না ১০ জন বিধায়কেরও। মেরেকেটে দেখা মিলল ৬ জনের। ছিলেন ৫ জন সাংসদ।
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় কোন তৃণমূল বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে? এমন প্রশ্নেই আলোড়িত পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার বিধানসভায় যাবেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তিনিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। কিন্তু তৃণমূলের তরফে স্পিকারের দফতরে যে চিঠিটি জমা পড়েছে, তাতে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিআইডি। সেই ঘটনাক্রম বুধবার কোন দিকে এগোয় সে দিকেই থাকছে সবার নজর ৷ বুধবার দুপুরের পর আসার কথা থাকলেও, ১০ টা নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছে গিয়েছেন ঋতব্রত। সূত্রের খবর, সন্দীপন সাহা পৌঁছলেই হবে একটি বৈঠক। তারপরই ৫৯ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি জমা করবেন ঋতব্রত। ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল? তৈরি হবে আসল তৃণমূল? এই সব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ৷ ঋতব্রতদের সঙ্গে এখন তৃণমূলের দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক ৷ অন্যদিকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মাত্র ২১ জন ৷ এমনটাই সূত্রের খবর ৷
বিধানসভা ভোটের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের অন্দরের ফাটল যেন একেবারে প্রকাশ্য রাজপথে চলে এল। গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা চলছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে ঘিরে। মঙ্গলবার সেই জল্পনার পারদ চড়ল আরও কয়েক গুণ। রাজনৈতিক মহলে হাওয়া উঠেছিল, মঙ্গলবারই নাকি প্রায় ৫০ জন অসন্তুষ্ট তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় স্পিকারের কাছে জমা দিতে পারেন ঋতব্রত। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ঢুকতে দেখেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। তবে জল্পনা তৈরি হলেও স্পিকারের ঘরে যাননি তিনি। নিজেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ৫০ বিধায়কের চিঠির জল্পনা উড়িয়ে দেন। কিন্তু জল্পনা ওড়ালেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তিনি।
মঙ্গলবার ধর্মতলায় মমতার ধর্নায় তৃণমূল বিধায়দের মধ্যে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ (ববি) হাকিম, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীমা পাত্র এবং কুণাল ঘোষ। দুই লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মালা রায় এবং চার রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম এবং নাদিমুল হক ছিলেন মঙ্গলবারের ধর্না কর্মসূচিতে। ফলে শুধু পরিষদীয় দল নয়, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সংসদীয় দল অটুট থাকবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বহিষ্কৃত ঋতব্রত মঙ্গলবার ঘোষণা করে দিয়েছেন, বুধবার হাওড়া গ্রামীণ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে সেখানকার তৃণমূল বিধায়কেরা হাজির থাকবেন!
চিঠি এবং সই-বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে থাকা দলীয় বিধায়কদের সই জাল কি না, ফরেন্সিক পরীক্ষাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মমতা মনে করছেন।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করার জন্য তৃণমূল কোনও রেজোলিউশন গ্রহণ করেনি। এমনকী, অভিষেকের চিঠির সঙ্গে বিধায়কদের সই সম্বলিত যে নথি পাঠানো হয়েছে সেখানেও অনেকে স্বাক্ষর করেননি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
Kolkata,West Bengal
Jun 03, 2026 10:53 AM IST
