কলকাতা: আজই ভাঙতে চলেছে তৃণমূল? বিধানসভায় আজই কি বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাবে তৃণমূল? কমপক্ষে ৬০ জন বিধায়ককে নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে যাচ্ছেন ঋতব্রতরা, খবর সূত্রের। ‘বিরোধী দলনেতা কে হবেন, বাছতে এসেছি বিধানসভায়’, জল্পনা উস্কে মন্তব্য সাবিনা ইয়াসমিনের। তৃণমূলের বিজয়ী বিধায়কদের মধ্যে ২০-২২ জন ইতিমধ্যেই বিধানসভায় প্রবেশ করেছেন। স্পিকারের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাবেন, তাঁদের বিরোধী দলনেতা কে হতে পারেন। (TMC Defection)
মঙ্গলবার কুণাল ঘোষ, অসীমা পাত্ররা বিধানসভায় চিঠি নিয়ে পৌঁছন। কিন্তু সেই চিঠি জমা করতে পারেননি তাঁরা। সেই চিঠিতে দলের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব ছিল। ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক করার প্রস্তাব ছিল চিঠিতে। তবে বিরোধী বিধায়কদের কোনও সই ছিল না চিঠিতে। আজ ঋতব্রত এবং তাঁর সমর্থক বিধায়করা কালো কাচের গাড়িতে চেপে বিধানসভায় ঢোকেন। (TMC News)
আরও পড়ুন: খান স্যরের কোচিংয়ে হামলা, দেদার ভাঙচুর, চলল গুলি, ভয়ঙ্কর ঘটনা পটনায়
বুধবার বিধানসভায় ঢোকার মুখে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা যাঁরা তৃণমূলের বিধায়ক, তাঁরা মিলে বৈঠকের আয়োজন করেছি। বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা বাছতে এসেছি বিধানসভায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা মিলে আলোচনা করে ঠিক করব।” দলের তরফে যে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা ঠিক করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কি আপত্তি রয়েছে? জবাবে সাবিনা বলেন, “এখনও পর্যন্ত অফিসিয়ালি উনি পাননি।”
তৃণমূলের বিজয়ী বিধায়করা একে একে বিধানসভায় পৌঁছচ্ছেন। সকলে যদিও মুখ খুলছেন না। কেউ ব্যক্তিগত কাজের দোহাই দিচ্ছেন। কেউ আবার সরকারি কাজের কথা বলছেন। তবে আজই তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই যদি হয়, সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটতে চলেছে এবার। এর আগে কখনও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এমন ঘটনা ঘটেনি। নিজের তৈরি করা দল হাতছাড়া হয়নি কারও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নয়া ইতিহাস রচনা করতে চলেছে।
আরও পড়ুন: ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর ভাবনা, আদালতে ধাক্কা খেয়ে ঘুরপথে লক্ষ্যপূরণ?
শুধু বিরোধী দলনেতা নির্বাচনই নয়, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা দাবি করবেন, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। কারণ সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই বিরোধী দলের স্বীকৃতি মেলে। আজ বিধানসভায় ঢুকেছেন প্রিয়া পাল, সাবিনা ইয়াসমিনের মতো অনেকেই। এঁরা একসময় মন্ত্রী ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁরাই আজ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। শুধু বিদ্রোহ ঘোষণাই নয়, মমতার হাত থেকে কার্যত তৃণমূল দলটিকে ছিনিয়ে নিচ্ছেন। ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহাদের দাবি, কমপক্ষে ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে তাঁদের পক্ষে।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই টালমাটাল তৃণমূল। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হয়ে ওঠে বিরোধী শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাবকে ঘিরে। সেই চিঠিতে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে জানা যায়, ঋতব্রত এবং সন্দীপনই স্পিকারকে চিঠি দেন সেই নিয়ে। যে কারণে নির্বাচনের পর একমাস কাটতে চললেও তৃণমূল বিরোধী দলের স্বীকৃতি পায়নি। স্পিকার জানিয়েছিলেন, জটিলতা না কাটা পর্যন্ত বিরোধী দলের স্বীকৃতি মিলবে না। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে, সরাসরি স্পিকারের কাছে ৬০ বিধায়ককে হাজির করাচ্ছেন ঋতব্রতরা।