ভারতীয় রেলওয়ের এডিজি ধর্মেন্দ্র তিওয়ারির মতে, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকিট কেনা এবং বার্থ বুক করা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ ৪ বছরের শিশু চাইলে বিনামূল্যে ভ্রমণ করতে পারে, যদি তার জন্য আলাদা বার্থ বুক না করা হয়। এই ধরনের শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে বিনা টিকিটেই ভ্রমণ করতে পারে এবং যাত্রাপথে কোনো সমস্যা হয় না।
শিশুর সঙ্গে ভ্রমণ: রেলের নিয়ম জেনে নিন
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, শিশুর সঠিক বয়স উল্লেখ করা অত্যন্ত জরুরি। টিকিট বুকিংয়ের সময় যদি ভুল বয়স দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার সময় তার পার্থক্য ধরা পড়ে, তাহলে অতিরিক্ত চার্জ বা জরিমানা হতে পারে।
অন্যদিকে, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য। এই বয়সের শিশুদের জন্য টিকিট বাধ্যতামূলক, এবং সিট বা বার্থের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারিত হয়। যদি বার্থ না নেওয়া হয়, তাহলে অর্ধেক টিকিট নিতে হয়। আর বার্থ নিলে পূর্ণ ভাড়া দিতে হয়।
ট্রেন যাত্রার সময় শিশুদের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বয়স, টিকিট এবং সিট।
০ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য টিকিট প্রয়োজন নেই। আলাদা সিট বা বার্থও দেওয়া হয় না। তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারে। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য টিকিট বাধ্যতামূলক, তবে অর্ধেক ভাড়ায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আলাদা সিট বা বার্থ দেওয়া হয় না। যদি বার্থ নেওয়া হয়, তাহলে বেশি ভাড়া লাগবে। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য পূর্ণ ভাড়া দিতে হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের মতোই সিট ও বার্থের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। বয়স প্রমাণপত্র রাখা বাধ্যতামূলক
যাত্রার সময় যদি টিটিই শিশুর বয়স নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তাহলে তিনি প্রমাণ চাইতে পারেন। তাই বয়স সংক্রান্ত কোনও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উপকারী।
আজকাল অধিকাংশ মানুষ IRCTC-এর মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট বুক করেন। বুকিংয়ের সময় শিশুর সঠিক বয়স উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশু ৫ বছরের কম হয়, সাধারণভাবে তার জন্য টিকিটের প্রয়োজন হয় না। তবে অনেক অভিভাবক দীর্ঘ যাত্রায় সুবিধার জন্য শিশুর জন্য আলাদা বার্থ বুক করেন। সেই ক্ষেত্রে শিশুর নাম টিকিটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
রেল যাত্রার আগে যাত্রীদের অবশ্যই টিকিট এবং রিজার্ভেশন সম্পর্কিত নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত, কারণ সময়ে সময়ে নিয়মে পরিবর্তন হতে পারে।