Last Updated:
Adhir Ranjan Chowdhury: শুভেন্দু অধিকারীর সকলের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়ে অধীর চৌধুরী শনিবার বলেন, ‘এটাই বাংলার কৃষ্টি ,সংস্কৃতি এবং সভ্যতা।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের দিনেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে পরাজিত কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী।
শুভেন্দু অধিকারীর সকলের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়ে অধীর চৌধুরী শনিবার বলেন, ‘এটাই বাংলার কৃষ্টি ,সংস্কৃতি এবং সভ্যতা।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। আর সরকারের প্রধান হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন, কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করবেন না। এখন থেকে তিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর এই ভাবনাকে শনিবার বহরমপুরে কংগ্রেস পার্টি অফিসে বসে কুর্নিশ জানালেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘উনি যদি সকলের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বাংলার মানুষ তাঁকে সমর্থন করবে । হিন্দু-মুসলমান, সমস্ত ধর্ম-বর্ণ আদিবাসী ,জনজাতি -উনি যেন সকলের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠেন । এটাই বাংলার কৃষ্টি -সংস্কৃতি -সভ্যতা । এই বাংলা রবীন্দ্রনাথ ,কাজী নজরুলের বাংলা। এই বাংলার সকলের হোক এটাই বাঞ্ছনীয়।’
শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করলেও অধীর চৌধুরী কিছুটা সংশয়ী রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিজের কথা কতটা রাখতে পারবেন সেই বিষয়ে। তিনি বলেন, ‘মুখে বলা যতটা সহজ, কাজে করে দেখানো ততটাই কঠিন। আমি জানিনা আপনার দল কতটা কথা শুনবে। তবে আজ অনেক আশা নিয়ে যেভাবে বর্ণাঢ্য মন্ত্রীসভার শপথ হল এবং দেশের তাবড় নেতারা উপস্থিত ছিলেন তাতে বাংলার মানুষ আপনার কাছে অনেক আশা করবে। এই রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের সকলের আশা এখন মানুষের ডবল উন্নতি হোক । না হলে বিরোধী হিসেবে চিৎকার করার জন্য আমরা থাকলাম, ওটা আমাদের কাজ।’ তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পেছনে আজ তৃণমূলের নীতি এবং মমতা ব্যানার্জির ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন অধীর চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘২০০০ সালের পর থেকেই মমতা ব্যানার্জির সৌজন্যে এই রাজ্যে বিজেপি ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব বাড়িয়েছে। তিনি এই রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে জোট করে ভোট করেছেন । আরএসএস – এর মঞ্চে গিয়ে তাদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর আমলে এই রাজ্যে আরএসএস – এর শাখা সংখ্যা ৩০০ থেকে বেড়ে ৬০০০ ছাড়িয়েছে। তাঁর মেহনতে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতা বেড়েছে। আমি শুধু বলবো এই সরকার যেন মানুষের হয়, সকলের হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী যেন সকলের হন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালনে তারা যেন সৎ হয়ে ।আমরা বিরোধীরা প্রহরীর মত বসে দেখতে থাকব কোথায় তারা ভুল করছে। সরকার ভুল করলেই আমরা প্রতিবাদ করব, তাতে আমরা এমএলএ হই বা না হই।’
‘এর পাশাপাশি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের কাছে মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য সুনির্দিষ্ট বিশেষ কয়েকটি দাবি আজ রেখেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি রেলের প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় মুর্শিদাবাদ জেলায় ‘ সেল ‘ এবং রেলকে নিয়ে একটি কোচ ফ্যাক্টরি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলাম। বিজেপি সরকার যেন তার বাস্তবায়ন করে । কৃষি প্রধান মুর্শিদাবাদ জেলায় পাট চাষিদের জন্য কারখানা তৈরি করার পরিকল্পনা বিজেপির তরফ থেকে করা হোক। আর মুর্শিদাবাদের ‘ পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা’- এই তকমা ঘোচানোর জন্য এই জেলাতেই যেন যুবক যুবতীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হয়।’
Kolkata,West Bengal