Last Updated:
বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর বাড়ির সামনে দেহ ঘিরে জনসমাগম হয়। জাতীয় পতাকায় দেহ মুড়ে চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাঁর পরিচিতরা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও ছিলেন।
চণ্ডীপুর, সৈকত শী: বুধবার মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রুথকে। বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তার প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে পর পর গুলির জন্য হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে যায়, যার জেরে সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়। সব শেষে মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রুথের। বৃহস্পতিবার প্রায় সন্ধ্যের সময় চন্দ্রনাথের মরদেহ চণ্ডীপুরে কুলুপ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। সকাল থেকেই চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিল গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বারাসাত হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বাড়ি ফিরে চন্দ্রনাথের মরদেহ। গ্রামের চন্দ্রনাথের মরদেহ প্রবেশ করতেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। এর পাশাপাশি চন্দ্রনাথের বাড়ির কাছে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হয় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।
চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নন্দকুমার, চণ্ডীপুর, পটাশপুর, ভগবান, এগরা ও উত্তর কাঁথি সহ বিভিন্ন বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কেরা। এদিন দুপুরের পরেই চন্দ্রনাথের বাড়িতে এসে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা এগরার নবনির্বাচিত বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী। চন্দ্রনাথ গ্রামের সবার প্রিয় পাত্র ছিলেন। পুরো গ্রামবাসী তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে অপেক্ষা করেছিলাম চন্দ্রনাথকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। প্রাক্তন এই বায়ুসেনা কর্মী অবসর নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। আর ৬ মে বুধবার দুষ্কৃতিদের গুলিতে প্রাণ হারালেন। চন্দ্রনাথের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয় কাঁথির সাংসদ তথা শুভেন্দু অধিকারীর ছোট ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কাঁথি ও তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্বরা।
শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা এগরার নবনির্বাচিত বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “রাজ্য পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে। চন্দ্রনাথ বায়ুসেনার জওয়ান ছিলেন। বায়ুসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। শুধু তাই নয় চন্দ্রনাথের সঙ্গে আমাদের পরিচয় সেই ২০০৮-০৯ সাল থেকে।” চন্দ্রনাথের মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নার রোল উঠল। ভারতমাতার বন্দনায় মুখরিত হল আকাশ বাতাস।