যদিও এই সমস্ত সম্ভাবনা সামনে আসতে শুরু করার পরেই এ বিষয়ে মুখ খুলেছে বেজিং৷ সরাসরি কোনও মন্তব্য না এলেও, চিন সোমবার ভারতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে যে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পে (TRCMRP) তাদের সহযোগিতা “কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়”।
একই সঙ্গে বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা এই প্রকল্প থেকে সরেও আসবে না৷ গতিও কমাবে না। বরং তাদের দাবি, ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ সত্ত্বেও ঢাকা-বেজিং সহযোগিতা “তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত” হওয়া উচিত। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে, ভারতের কোনও প্রভাব না থাকাই বাঞ্ছনীয় তাদের কাছে৷
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি ভারতের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ তিস্তা অববাহিকার অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি।
বেজিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চিন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনও তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এই সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।”
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পের ওপর নিবিড় নজর রাখছে। কারণ তিস্তা অববাহিকা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
নয়াদিল্লির উদ্বেগের মূল কারণ, এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় অবকাঠামো ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চিনের দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থল-সংযোগের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ভারতের উদ্বেগ প্রশমিত করার চেষ্টা করে গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
তিনি বলেন, “তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চিন তার সাধ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করতে এবং বাণিজ্য, জলসম্পদ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চিন প্রস্তুত।”
এদিকে, বাংলাদেশও প্রকল্পটিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানান, তিস্তা প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ ও চিনের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (টেকনিক্যাল ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা করবেন। বৃহৎ পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।