গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিলের পর হিংসা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে একাধিক হিংসামূলক সংঘর্ষের ঘটনায় এই এফআইআরগুলি দায়ের করা হয়।
বিভিন্ন রাজ্যে নিট-আন্দোলনে শামিল হওয়া বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড় শুরু হতেই ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তার পরেই সোমবার মধ্যরাতে কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন বলে জানিয়েছে সিজেপি। রাত ১টা নাগাদ সিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস একটি ভিডিও-বার্তায় জানান, যে সমস্ত আন্দোলনকারীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে সরকার।
বিক্ষোভের জেরে মোট ২০টি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত তিনটি খুনের চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের আওতায় পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে ২২ জুলাই দিল্লি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের উপর হামলার ঘটনাও। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। এই হামলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ৷ যেখানে দেখা যায়, হিংসাত্মক জনতার মাঝে আটকে পড়ে বিবেক ভগত আক্রান্ত হচ্ছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ডিসিপি বিনীত কুমার এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা প্রবল পাথরবৃষ্টির মধ্যেও তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক নিউজ18-কে জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক আইনি ধারায় এফআইআরগুলি দায়ের করা হয়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। নিউজ18 আরও জানতে পেরেছে, নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা লুটপাটে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল—এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু করেছে পুলিশ।
সরকার এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কে আশ্বাস দিয়েছিল যে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সি সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং “যাদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক অতীতের রেকর্ড নেই”, তাঁদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ রাজ্যগুলিকে দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং অসম-সহ একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই এফআইআর প্রত্যাহার করা হলেও, দিল্লিতে এ ধরনের কোনও সরকারি নির্দেশ এখনও জারি হয়নি।
সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, যাদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।
এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় এই বিষয়টি নিয়ে এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে ককরোচ জনতা পার্টি ফের দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে।