সমীরণ পাল, উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়া হল CAA-র সার্টিফিকেট। এ’নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন মতুয়ারা। ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়িতে এখনও চলছে CAA ক্যাম্প। প্রতিদিনই অনেকেই আসছেন CAA-তে আবেদন করতে।
আরও পড়ুন, জাতিভিত্তিক জনগণনা শুরুর পর জরুরি বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, “SIR-এ যে ২৭ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন ছিল..”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২৩ হাজার ৯৫৬ জনকে এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে সার্টিফিকেট। ২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৫ মোট আবেদনকারী।একদিনে জোড়া পদক্ষেপ। একদিকে, ডিজিটাল জনগণনার সেলফ এনুমারেশন প্রক্রিয়ার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক জনের হাতে তুলে দেওয়া হল CAA-র সার্টিফিকেট।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, জৈন, পার্সি, বৌদ্ধ, তাঁরা কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর পর্যায়ে পড়েন না। তাঁরা শরণার্থীর পর্যায়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ভারত সরকারের ২০১৯-এর যে আইন, ২০২৪-এর যে রুল, তাতে খুব পরিষ্কার বলা আছে, যে CAA-র আওতায় এঁরা শরণার্থী। এই অবস্থায়, আশায় বুক বাঁধছেন মতুয়ারা।
ঠাকুরনগরের মতুয়াবাড়িতে এখনও চলছে CAA ক্যাম্প। প্রতিদিনই এখানে অনেকেই আসছেন CAA-তে আবেদন করতে।এই অবস্থায়, CAA-এর প্রক্রিয়া সরলীকরণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আবেদন করেছেন মতুয়া সঙ্ঘাধিপতি ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, প্রচুর মানুষ সার্টিফিকেট পাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি সরলীকরণ করতে, পুরো বিষয়টি রাজ্যকে দেখতে, তাহলে সুবিধা হবে, তাড়াতাড়ি হবে।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা, বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা, স্বরূপনগর-সহ যে পাঁচটি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার মতুয়া, এবারের বিধানসভা ভোটে তার মধ্যে চারটিতে জিতেছে বিজেপি।পাশের জেলা নদিয়ার, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, কৃষ্ণগঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ-সহ অন্তত সাতটি বিধানসভায় নির্নায়ক ভূমিকা নেন মতুয়ারা। ‘২৬-এর বিধানসভা ভোটে এই সব কটি আসনেই জিতেছে বিজেপি।বাংলাদেশ থেকে আসা সেই সব মতুয়াদের শরণার্থীর মর্যাদা দিয়ে CAA-র শংসাপত্র তুলে দেওয়াই এখন নতুন সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।