Last Updated:
দুধওয়া টাইগার রিজার্ভে (DTR) এবার থেকে বাঘের পাশাপাশি চিতাবাঘের বিচরণক্ষেত্রও ক্যামেরায় তোলা ছবির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের বাঘ গণনায় প্রথমবারের মতো চিতাবাঘকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিশনপুর অভয়ারণ্য, বাফার জোন এবং কাতারনিয়াঘাট বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যে বসানো ১,৮০০টি ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবি বিশ্লেষণ করে দেহরাদুনের ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠান (WII)-এর বিশেষজ্ঞরা ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করছেন।
আতিশ ত্রিবেদী, লখিমপুর খেরি: উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার তরাই অঞ্চলে অবস্থিত দুধওয়া জাতীয় উদ্যান (Dudhwa National Park) দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভয়ারণ্য। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক এখানে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য ভিড় জমান। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত দুধওয়া জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। এই সময় পর্যটকেরা বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পান। পাশাপাশি দুধওয়া জাতীয় উদ্যানে বহু বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রাণীরও বসবাস রয়েছে।
দুধওয়া টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে একশৃঙ্গ গণ্ডারও দেখা যায়। বর্তমানে সেখানে গণ্ডারের সংখ্যা বেড়ে ৫৩-তে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি পুরুষ গণ্ডার, ২৫টি স্ত্রী গণ্ডার এবং ১১টি শাবক। ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল নাকের উপর থাকা একটিমাত্র শিং, যার দৈর্ঘ্য সাধারণত ২০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

উত্তরপ্রদেশের তরাই অঞ্চলে অবস্থিত দুধওয়া জাতীয় উদ্যান তার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর জন্য দেশজুড়ে সুপরিচিত। বাঘ, গণ্ডার ও হাতির পাশাপাশি এখানকার আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ হল বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ। দুধওয়া টাইগার রিজার্ভ দেশের সেই অল্প কয়েকটি সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে অন্যতম, যেখানে একসঙ্গে পাঁচ ধরনের হরিণ দেখা যায়। দুধওয়ার ঘন বন, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি এবং জলাভূমি হরিণদের জন্য আদর্শ আবাসস্থল। এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ‘বারাসিঙ্গা’, ‘সাম্বর’, ‘চিতল’, ‘হগ ডিয়ার’ এবং ‘বার্কিং ডিয়ার’ পাওয়া যায়।

দুধওয়া টাইগার রিজার্ভে (ডিটিআর) এবার থেকে বাঘের পাশাপাশি চিতাবাঘের বিচরণক্ষেত্রও ক্যামেরায় তোলা ছবির মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের বাঘ গণনায় প্রথমবারের মতো চিতাবাঘকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিশনপুর অভয়ারণ্য, বাফার জোন এবং কাতারনিয়াঘাট বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যে বসানো ১,৮০০টি ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবি বিশ্লেষণ করে দেহরাদুনের ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠান (Wildlife Institute of India – WII)-এর বিশেষজ্ঞরা ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত করছেন।
এতদিন পর্যন্ত দুধওয়া টাইগার রিজার্ভে প্রতি চার বছর অন্তর ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র বাঘের সংখ্যা নির্ধারণ করা হত। তবে এবার ক্যামেরায় ধরা পড়া চিতাবাঘের (Leopard) ছবিও আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্যামেরা ট্র্যাপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠান, দেহরাদুনে পাঠানো হবে। এই গণনা সম্পূর্ণ হলে জঙ্গলে ঠিক কতটি চিতাবাঘ রয়েছে, তার নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে।

২০২২ সালের সর্বশেষ গণনায় দুধওয়া টাইগার রিজার্ভে ১৫৩টি বাঘ নথিভুক্ত হয়েছিল। এই সংখ্যার ভিত্তিতে দেশের টাইগার রিজার্ভগুলির মধ্যে দুধওয়ার স্থান ছিল চতুর্থ। বন দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে দুধওয়ার জঙ্গলে আনুমানিক ১০০টি চিতাবাঘ (Leopard) রয়েছে। প্রথমবারের মতো সরকারি গণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদের প্রকৃত সংখ্যাও নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব হবে।
দুধওয়া টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর ড. এইচ. রাজামোহন জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে গণনার ফল প্রকাশিত হলে বাঘ ও চিতাবাঘ—উভয়েরই সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। দেহরাদুনের ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘ ও চিতাবাঘের ছবির ডিজিটাল বিশ্লেষণ প্রস্তুত করছেন।
Lakhimpur,Kheri,Uttar Pradesh
