Last Updated:
Cough Syrups New Rule: অতীতে উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন বিদেশি দেশ থেকে ভারতে তৈরি দূষিত বা ত্রুটিপূর্ণ সিরাপ খেয়ে শিশুদের মৃত্যুর অনুরূপ ঘটনা সামনে এসেছে।
নয়াদিল্লি: প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর বিক্রি হবে না কাশির সিরাপ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জারি করা একটি গেজেটেড নোটিফিকেশনে কেন্দ্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক (MoHFW) জানিয়েছে, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর বিক্রি হবে না কাশির সিরাপ৷ সব ধরনের কাশির সিরাপের ক্ষেত্রেই বিষয়টি প্রযোজ্য হবে বলে জানা গিয়েছে৷
দূষিত কাফ সিরাপ ব্যবহারের কারণে একাধিক মৃত্যুর বিষয় সামনে আসার পর কাফ সিরাপের গুণমান নিশ্চিত করার বিষয়টি ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরামর্শদাতা কমিটি, ড্রাগ কনসালটেটিভ কমিটি (DCC)-র এক বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
সেখানেই DCC-কে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, কফ সিরাপের গুণমান নিশ্চিত করার জন্য এবং বিশেষত কী কী উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে তার ওপর আরও কড়া নজরদারির জন্য কাফ সিরাপকে শিডিউল K-এর অধীনে যে ছাড় (exemption) দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হোক। DCC বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এবং প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। তারপরই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে৷
এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়া থাকে। নেশা হয়। এই বিজ্ঞপ্তি ভালো। মানুষকে সচেতন করতে হবে। এত কিছু বলার পরেও অ্যান্টিবায়োটিক অনুমতি ছাড়া বিক্রি হয়। প্রচুর পরিমাণে কাফ সিরাপ অনুপ্রবেশ হয়। আমাদের রাজ্যের থেকে যায়। মদ্যপান নাকি বাংলাদেশে হারাম। তাই এখান থেকে যায়। লোকে নেশা করে ওখানে কাফ সিরাপ দিয়ে। ২০০ টাকা নেশার পেছনে যুব সমাজ ব্যায় করে। কাফ সিরাপের ব্যবসা মলের বাইরে হচ্ছে।’’
৯ জুন এই আদেশ জারি করে, ভারত সরকার৷ (GOI) যার মাধ্যমে ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস-এর শিডিউল K থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। শিডিউল K-তে সেইসব সামগ্রীর তালিকা রয়েছে যা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসিগুলো বিক্রি করতে পারে। নোটিস অনুসারে, এটি ১৯৪০ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট-এর অধীনে থাকা নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী থেকে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ক্রয়কে বাদ দেয়।
নির্দেশে বলা হয়েছে যে, সরকার ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের ১২ এবং ৩৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এর খসড়া প্রকাশের পর কোনও আপত্তি না ওঠায় এই পরিবর্তনটি কেবল এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
২০২৫ সালে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে ডাইইথিলিন গ্লাইকোল মিশ্রিত কাশির সিরাপ খেয়ে প্রায় ২৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এই সিরাপগুলো শ্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালস দ্বারা উৎপাদিত ‘কোল্ড্রিফ’-এর নামক সংস্থার ছিল।
